দেশজুড়ে

অস্ত্রোপচারে মা-নবজাতকের মৃত্যু, সেই পশুচিকিৎসক গ্রেফতার

নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার চন্দ্রপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামে প্রসূতি শরিফা আক্তার (১৯) ও তার নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্ত পশুচিকিৎসক আবুল কাশেমকে (৬০) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (৫ মে) রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে বুধবার (৪ মে) বিকেলে ওই প্রসূতিকে অস্ত্রোপচার করেছিলেন পশুচিকিৎসক আবুল কাশেম। এতে রক্তক্ষরণে মা ও নবজাতকের মৃত্যু হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মৃত প্রসূতি শরিফা আক্তার চন্দ্রপুর গ্রামের প্রতিবন্ধী হাইছ উদ্দিনের মেয়ে। গতবছর সুনামগঞ্জের তাহেরপুর এলাকায় মহসিন মিয়া নামের এক যুবকের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। প্রসবের সময়কাল নিকটবর্তী হওয়ায় নিরাপদ ডেলিভারির জন্য তিনি গত সপ্তাহে বাবার বাড়িতে আসেন।

বুধবার সকালের দিকে শরিফার প্রসবব্যথা শুরু হলে তার স্বজনরা আবুল কাশেম নামের ওই পশুচিকিৎসককে খবর দেন। তিনি প্রসূতিকে ইনজেকশন ও স্যালাইন দেন এবং অস্ত্রোপচার করে বাচ্চা বের করেন। পরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে মা ও নবজাতকের মৃত্যু হয়।

কাশেমের বাড়ি পাশের জীবনপুর গ্রামে। তিনি এলাকায় পশু চিকিৎসার পাশাপাশি মানুষের চিকিৎসাও করেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

মৃত শরিফার স্বামী মহসিন মিয়া বলেন, ‘সকালে প্রসবব্যথা শুরু হলে কাশেম ডাক্তারকে খবর দেওয়া হয়। তিনি শরিফার শরীরে ইনজেকশন ও স্যালাইন পুশ করেন এবং তলপেটের নিচে অস্ত্রোপচার করেন।’

মহসিন মিয়ার অভিযোগ, অস্ত্রোপচারের ব্যাপারে ওই হাতুড়ে চিকিৎসকের প্রস্তুতি ছিল না। পরে ওষুধ আনতে দেরি হওয়ায় অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শরিফা মারা যান।

এ বিষয়ে পশুচিকিৎসক আবুল কাশেমের ভাষ্য, ‘শরিফার পরিবারের লোকজন চেয়েছিল নরমাল (স্বাভাবিক) ডেলিভারি করানোর জন্য। আমি তাকে স্যালাইন ও ইনজেকশন পুশ করেছিলাম। বাচ্চা হওয়ার পর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়েছে।’

এদিকে অপচিকিৎসায় মা ও নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুস্তাফিজুর রহমানকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম মাজহারুল ইসলাম।

অপচিকিৎসায় মা ও নবজাতকের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বারহাট্টা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ লুৎফুল হক বলেন, ঘটনা শোনার পর ওইদিন রাতেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। বৃহস্পতিবার রাতে শরিফার স্বামী মহসিন মিয়া বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। পরে রাতেই আসামিকে গ্রেফতার করা হয়। শুক্রবার (৬ মে) তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক কাজি আবদুর রহমান বলেন, ঘটনাটির সত্যতা জানতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে শনিবারের (৭ মে) মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

এইচ এম কামাল/এসআর/এমএস