দেশজুড়ে

পুলিশ হেফাজতে ব্যবসায়ীর মৃত্যুর ঘটনায় স্ত্রীর মামলা

সরাইলে পুলিশ হেফাজতে ব্যবসায়ী নজির আহমেদ সাপুর মৃত্যুর অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতে দায়ের করা মামলাটি আমলে নিয়ে আদেশ দিয়েছেন বিচারক।

বুধবার (১১ মে) সন্ধ্যায় মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী মো. নাছির এই তথ্য জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, মঙ্গলবার দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ শারমিন সুলতানা নিগার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপারকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

এর আগে গত রোববার দুপুরে নিহত ব্যবসায়ী নজির আহমেদ সাপুর স্ত্রী শিরীন সুলতানা রিমা বাদী হয়ে সরাইল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল এবং এএসআই সাইফুলসহ ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৪/৫ জনকে আসামি করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগের পাশাপাশি ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধ নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু নিবারণ আইনে (২০১৩) অভিযোগ আনা হয়েছে।

রোববার জেলা ও দায়রা জজ শারমিন সুলতানা নিগার বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে মামলাটি আদেশের জন্য রেখে দেন। পরে মঙ্গলবার তিনি মামলাটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন আদালতে দাখিল করার নির্দেশ দেন।

মামলার বাদী শিরীন সুলতানা রিমা এজাহারে অভিযোগ করেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষের জুম্মান নামে এক ব্যক্তি গত ২১ এপ্রিল রাতে ব্যবসায়ী নজির আহমেদ সাপুর ঘরে অসৎ উদ্দেশ্যে প্রবেশ করেন। তখন তাকে আটক করলে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে জুম্মান ও ব্যবসায়ী নজিরকে থানায় নিয়ে আসে। এর পর রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টায় পুলিশ হেফাজতে ব্যবসায়ী নজিরের মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নজিরের মরদেহ হাসপাতালে রেখেই পুলিশ তড়িঘড়ি করে নিজেরাই থানার কম্পিউটারে এজাহার লিখিয়ে নজিরের বড় ভাই জাফর আহমেদকে বাদী করে একটি এফআইআর গ্রহণ করে।

মামলার বাদীর অভিযোগ, ঘটনার দিন দুপুরে মামলার আসামি মাহফুজ মিয়া, দানু মিয়া, শাহাবুদ্দিনসহ অন্য আসামিরা পাড়ার একটি ফার্নিচারের দোকানে উপস্থিত লোকজনকে জানিয়ে আসেন তারা নজিরের বসতবাড়ির পাওয়ার অব অ্যাটর্নি পেয়েছেন। পরে তারা নজিরকে বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে আসেন। একইদিন বিকেলে মামলার আসামি জুম্মানসহ আরও কয়েকজন নজির ও তার স্ত্রীকে হুমকি দেন যে, বাড়িতে বসবাস করতে হলে তাদের ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দিতে হবে। না হলে বাড়ি ছেড়ে দিতে হবে।

এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টায় আসামি জুম্মান ব্যবসায়ী নজিরের ঘরে অসৎ উদ্দেশ্যে প্রবেশ করেন। বিষয়টি টের পেয়ে নজির তাকে আটক করলে খবর পেয়ে আশপাশের লোকজন জড়ো হন। এসময় প্রতিপক্ষের লোকজন জুম্মানকে ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য নজিরের বাড়িতে হামলা করেন।

তখন তাৎক্ষণিক পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ব্যবসায়ী নজিরের কাছে জানতে চান কেন জুম্মানকে আটকে রাখা হয়েছে। মামলার বাদী দাবি করেন, পুলিশ নজিরের কোনো কথা না শুনেই তাকে জুম্মানের সঙ্গে টেনেহিঁচড়ে থানায় নিয়ে যায়। খবর পেয়ে নজিরের স্বজনরা থানায় গিয়ে জানতে পারেন তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। সেখানে গিয়ে তারা নজিরকে মৃত দেখতে পান। ওই সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক মন্তব্য করেন হাসপাতালে নেওয়ার আগেই নজিরের মৃত্যু হয়েছে।

নজিরের স্ত্রীর অভিযোগ, থানায় পুলিশ ও অপর আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে নির্যাতন করে তার স্বামীকে হত্যা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. নাছির বলেন, আদালতে দ্বিতীয়বার এফআইআর গ্রহণ করার পক্ষে আমরা উচ্চ আদালতের রেফারেন্সসহ আমাদের যুক্তি তুলে ধরেছি। পরে আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করেন।

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার মো. আনিসুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, আদালত থেকে কোনো আদেশ এখনো আমাদের কাছে এসে পৌঁছায়নি। হাতে পেলে কার্যক্রম শুরু করা হবে।

আবুল হাসনাত মো. রাফি/এমআরআর/জিকেএস