ঝড়ে বগুড়ার ধুনট উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়নের কমপক্ষে ১৫টি গ্রামের প্রায় এক হাজার পরিবারের ঘরবাড়ি ও গাছপালা লন্ডভন্ড হয়েছে। এতে মৌসুমি ফল আম, লিচু, কলা, ভুট্টাক্ষেত, ধানসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
সোমবার (১৬ মে) রাতে ও মঙ্গলবার (১৭ মে) ভোর ৫টার দিকে দফায় দফায় উপজেলার মথুরাপুর ও চৌকিবাড়ি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের ওপর দিয়ে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়।
এর আগে শুক্রবার (১৩ মে) দিনগত মধ্যরাতে ঝড়ে মথুরাপুর ইউনিয়নের শ্যামগাতী, পিরহাটি, খাদুলী ও ভাদাইলহাটাসহ কমপক্ষে ১০টি গ্রামের পাঁচ শতাধিক পরিবারের বাড়িঘর লন্ডভন্ড হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেমাবার মধ্যরাত থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত দফায় দফায় ঝড়ে বাড়িঘর লন্ডভন্ড হয়েছে। প্রবল বেগে বয়ে চলা বাতাসে উড়ে গেছে ঘরের চালা। নষ্ট হয়েছে ঘরের খাদ্যসামগ্রী। আসবাবপত্র লন্ডভন্ড হয়েছে। ঝড়ে চৌকিবাড়ি ইউনিয়নের শ্যামবাড়ি গ্রামের একটি মাদরাসার শ্রেণিকক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কালবৈশাখী ঝড়ে ছোট-বড় অসংখ্য গাছপালা উপড়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ সঞ্চালনের তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বিদ্যুতের অসংখ্য মিটার ভেঙে গেছে। রাস্তায় গাছ পড়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছে। ঝড়ে বোরো ধানের ক্ষতি হওয়ায় কৃষকরা দুশ্চিন্তায় পড়েছেন।
উপজেলার শ্যামগাতী গ্রামের বেলাল হোসেন বলেন, গভীর রাতে হঠাৎ করে পশ্চিম দিক থেকে শোঁ শোঁ শব্দে কিছু বুঝে ওঠার আগেই ঝড়ে মুহূর্তের মধ্যে ঘরবাড়ি উড়ে যায়। গাছপালা ভেঙে পড়ে। বর্তমানে পরিবার-পরিজন নিয়ে খোলা আকাশের নিচে বসবাস করছি।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সঞ্জয় কুমার মহন্ত বলেন, ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় বাড়িঘর ও গাছপালা ভেঙে গেছে। ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনো জানা যায়নি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা তৈরি করে সহযোগিতা করা হবে।
এসআর/এমএস