ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পূর্ব শত্রুতার জেরে একটি বাড়ির সামনে গর্ত করে গরুর গোবর ও মূত্র ফেলে প্রতিবন্ধকতা তৈরির অভিযোগ উঠেছে। সদর উপজেলার ভাটপাড়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে ক্যাপ্টেন জয়নাল আবেদীন সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
থানায় দেওয়া অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভাটপাড়া গ্রামের ফুল মিয়ার পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে মৃত নুরুল ইসলামের পরিবারের জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছে। তারা একই বংশের ও পাশাপাশি বাড়ির বাসিন্দা। তাদের জমিজমা নিয়ে আদালতে মামলাও চলমান। সম্প্রতি এই বিরোধকে কেন্দ্র করে নুরুল ইসলামের বাড়িতে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে ফুল মিয়ার ছেলেরা নুরুলের বাড়ির গেটের সামনে গর্ত করে গরুর গোয়াল ঘর থেকে মলমূত্র আসার সংযোগ করে দিয়েছেন। এছাড়া তাদের বাড়ির দেওয়ালের পাশেও গোবর ফেলেন। এর ফলে নুরুল ইসলামের পরিবারের সদস্যরা গোবরের দুর্গন্ধে দরজা-জানালা বন্ধ রাখতে বাধ্য হন। এছাড়া বাড়ি থেকে গেট দিয়ে তাদের বের হতেও কষ্ট করতে হচ্ছে।
এ ঘটনায় রোববার (১৫ মে) রাতে সদর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দেন জয়নাল আবেদীন। অভিযোগে বিবাদী করা হয়েছে ফুল মিয়ার ছেলে লুৎফর রহমান ও সালাউদ্দিনকে। অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে।
এবিষয়ে অভিযোগকারী ক্যাপ্টেন জয়নাল আবেদীন জাগো নিউজকে বলেন, আমাকে জাহাজের সঙ্গে বেশিরভাগ সময় বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়াতে হয়। আমার চার ভাই থাকে প্রবাসে ও এক ভাই ব্যবসায়ী। মা থাকেন বাড়িতে। বাড়ি বেশির ভাগ সময় ফাঁকা থাকে। এই সুযোগে বাড়ির গেটে গর্ত করে ও দেওয়ালের পাশে গোবর ফেলে ফুল মিয়ার ছেলেরা। তারা এভাবে আমাদের মানসিক নির্যাতন শুরু করেছে। আমরা বলেছি যেহেতু আদালতে মামলা চলমান আছে, সেখান থেকে যে রায় দেয় তা আমরা মেনে নেব।
জানতে চাইলে অভিযুক্ত ফুল মিয়ার ছেলে সালাউদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, জায়গা নিয়ে আমাদের মামলা-মোকদ্দমা দীর্ঘদিনের। আমরা বাড়ির সামনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করিনি। দেওয়ালের পাশের গোবরগুলো সরিয়ে নেবো। গেটের সামনে জমে থাকা জায়গায় মাটি দিয়ে দিতে বলে গেছে পুলিশ।
অভিযোগের তদন্ত কর্মকর্তা সদর মডেল থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সাইদ উদ্দিন জাগো নিউজকে সোমবার রাতে বলেন, অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। স্থানীয় ইউপি সদস্যের সামনে অভিযুক্তদের বাড়ির সামনের গর্ত মাটি দিয়ে ভরাট করতে ও দেওয়ালের পাশে ফেলা গোবর সরিয়ে নিতে বলেছি। নাহলে পরবর্তীকালে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আবুল হাসনাত মো. রাফি/এমআরআর/এএসএম