কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় যুবক সাবু মিয়াকে হত্যার দায়ে দুই আসামির যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের ২৫ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
সোমবার (৩০ মে) দুপুরে কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-১ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ তাজুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের চাঁপাইগাছি গ্রামের আজিম প্রামাণিকের ছেলে মো. বাপ্পি প্রামাণিক ও একই ইউনিয়নের মহেন্দ্রপুর গ্রামের গোলাপ সর্দ্দারের ছেলে আলামিন সর্দ্দার। রায় ঘোষণার সময় তারা এজলাসে উপস্থিত ছিলেন। রায় ঘোষণার পর তাদেরকে কারাগারে পাঠানো হয়।
রায়ের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়ার জজকোর্টের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী।
তিনি বলেন, ২০১৫ সালের ১২ সেপ্টেম্বর বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের মো. স্বপন মন্ডলের বড় ছেলে কৃষক সাবু মিয়া বাড়ি থেকে বাইসাইকেলে চাঁপাইগাছি বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা হন। রাতে বাড়ি ফিরে না আসায় সম্ভাব্য স্থানে খোঁজ নিয়ে তার কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে কুষ্টিয়ার চাঁপাইগাছি এলাকার কাদের বিশ্বাসের কলা বাগানের ভেতর মরদেহ পড়ে থাকার খবর শুনে স্বজনরা সাবুকে শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ এসে মরদেহ উদ্ধার করে। প্রেমঘটিত বিষয়কে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।
পিপি আরও বলেন, এ ঘটনায় নিহত সাবু মিয়ার বাবা স্বপন মন্ডল বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা বাপ্পি প্রামাণিক ও আলামিন সর্দ্দারের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে ৩০ মে রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন আদালত।
আল-মামুন সাগর/এসজে/এএসএম