দেশজুড়ে

বগুড়ায় গ্রাহকের কোটি টাকা ‘আত্মসাৎ’, এনজিওর এমডি অবরুদ্ধ

বগুড়ার ধুনট উপজেলায় একটি বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শাহ আলীর বিরুদ্ধে গ্রাহকের প্রায় কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় জমা রাখা টাকা ফেরতের দাবিতে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা এমডিকে এনজিও কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করেন।

রোববার (৫ জুন) দুপুর ১টার দিকে ধুনট শহরের উত্তর অফিসারপাড়া এলাকায় এনজিওটির কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, শাহ আলী সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার পারুলকান্দি গ্রামের রিয়াজ উদ্দিনের ছেলে। আগামী ২৪ জুনের মধ্যে গ্রাহকদের টাকা ফেরতের আশ্বাসে সাদা স্ট্যাম্পে সই দিয়ে তিনি বিকেল ৫টার দিকে মুক্তি পেয়েছেন। তিনি এখন বগুড়ার বনানী এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন।

জানা গেছে, শাহ আলী ২০১০ সালে ‘প্রাপ্তি সঞ্চয় ও ঋণদান সমিতি’ নামে একটি এনজিও গড়ে তোলেন। সেখানে তিনি অধিক লাভের লোভ দেখিয়ে সদস্য সংগ্রহ শুরু করেন। পরবর্তীকালে ২০১৩ সালে ‘পল্লী প্রগতি সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামে সমবায় অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধন নেন। তিনি ধুনট শহরের উত্তর অফিসার পাড়ায় নিজস্ব বাসায় এনজিওর কার্যক্রম চালাতে থাকেন। ওই এনজিওতে ৩০ জন শেয়ার হোল্ডার সদস্য, ১০ জন ডিপিএস এবং ২৫০ জন সাধারণ সঞ্চয় ও ঋণের সদস্য রয়েছেন।

শাহ আলী এসব গ্রাহকের কাছ থেকে আট বছরে প্রায় কোটি টাকা সংগ্রহ করেছেন। সর্বশেষ ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত গ্রাহকদের সঙ্গে লেনদেন চলেছে। ২০২২ সালের জানুয়ারি মাস থেকে হঠাৎ করেই এনজিওর সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন শাহ আলী। এতে বেকায়দায় পড়েছেন প্রায় ২৮০ জন গ্রাহক। রোববার দুপুরে শাহ আলী গোপনে ওই এনজিও কার্যালয়ে আসলে গ্রাহকরা টের পেয়ে তাকে অবরুদ্ধ করেন।

সমিতির শেয়ার হোল্ডার সদস্য পারুলকান্দি গ্রামের রফিকুল ইসলাম জানান, তিনি একজন রিকশাচালক। ছয় বছর ধরে তিনি এ এনজিওতে টাকা জমা রাখেন। তিনি এ পর্যন্ত ৪ লাখ ৬০ হাজার টাকা জমা করেছেন। গত ছয়মাস ধরে এনজিওটি লভ্যাংশ দিচ্ছে না। এখন তারা মূল টাকা ফেরত নিতে এসেছেন।

একই গ্রামের হাসারানী জানান, তার ছেলে বিদেশ থেকে টাকা পাঠান। সেই টাকা এনজিওতে জমা রেখেছেন। ছয় মাস পর আজ এমডি অফিসে আসার খবর পেয়ে তিনি টাকা ফেরত নিতে এসেছেন।

এছাড়া একই এলাকার ববিতা খাতুন, আতাউর রহমান, চাঁদনী আক্তার ও খোদেজা খাতুনসহ প্রায় শতাধিক গ্রাহক তাদের জমা রাখা টাকা ফেরত নিতে এসেছেন।

এ বিষয়ে এনজিওর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) শাহ আলী বলেন, করোনার কারণে গ্রাহকের কাছ থেকে ঋণের টাকা উত্তোলন করতে না পারায় সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। প্রত্যেক গ্রাহককে তাদের জমা রাখা টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হবে। গ্রাহকের দাবির মুখে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর দিয়ে তাদের শান্ত করা হয়েছে।

ধুনট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কৃপা সিন্ধু বালা বলেন, এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমআরআর