দেশজুড়ে

কোরবানির ঈদ এলেই ঈশ্বরদী আসেন তারা

ঈদুল আজহার দিন সকালে পাবনার ঈশ্বরদী রেলওয়ে জংশন স্টেশনের দক্ষিণ প্রান্তে কৃষ্ণচূড়ার গাছের ছায়ায় বসে শিশুসহ ৩০ জন সকালের নাস্তা করছেন। কেউ সেমাই-রুটি আবার কেউ খিচুড়ি-মাংস খাচ্ছেন। ঈদের সকালে ভালো খাবার পেয়ে তারা বেশ উচ্ছ্বসিত।

ঈশ্বরদী পৌর শহরের বাসাবাড়ি থেকে এসব খাবার তারা সংগ্রহ করেছেন। এরা সবাই একদিনের জন্য ঈশ্বরদীতে এসেছেন। তাদের একটি লক্ষ্য কোরবানির মাংস সংগ্রহ করা। এ মাংস নিয়ে তারা সন্ধ্যা বা রাতে ফিরবেন নিজ বাড়িতে।

রোববার (১২ জুলাই) ঈদের দিন সকাল সাড়ে ৯টায় স্টেশনের ৩ নম্বর প্ল্যাটফরমে দাঁড়িয়ে নুরজাহান বেগমের সঙ্গে জাগো নিউজের কথা হয়। তিনি বলেন, ‘আমার বাড়ি পাবনার চাটমোহর স্টেশনের রেল বাজারে। রেলের পরিত্যক্ত জায়গায় বাড়ি করে থাকি। স্বামী নেই। বাসাবাড়িতে মাঝেমধ্যে কাজকর্ম করে কোনোরকমে দিন চলে যায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রায় ২৫ বছর ধরে কোরবানির ঈদের দিন ঈশ্বরদীতে কাটে। আমার মতো এমন দুই শতাধিক দুস্থ ও অসহায় মানুষ ঈশ্বরদীতে আসেন। সবাই আগের দিন রাতে অথবা ভোরে ঈশ্বরদীতে এসে পৌঁছান। অনেকেই স্টেশনের প্ল্যাটফরমের মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেন। দিন শেষে প্রত্যেকেই চার-পাঁচ কেজি পর্যন্ত মাংস সংগ্রহ করেন।

বড়াইগ্রাম উপজেলার গাংপাড়া গ্রামের আব্দুস সোবাহান (৬৫) বলেন, ‘সাত-আট বছর ধরে কোরবানির ঈদের দিন ভোরে ঈশ্বরদীতে আসি। অন্য এলাকার চেয়ে এখানে কোরবানির মাংস বেশি সংগ্রহ করা যায়। আমরা গরীব মানুষ। মাংস কেনার সামর্থ্য নেই। চার-পাঁচ কেজি মাংস পেলে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে খেতে পারি। তাই প্রতি বছর এখানে ছুটে আসি।’

বাগাতিপাড়ার তমালতলা এলাকার আসনা খাতুন (৬২) বলেন, ‘শুধুমাত্র কোরবানির ঈদেই ঈশ্বরদীতে আসি। আগে শবেবরাতের মধ্যেও আসতাম। কিন্তু এখন তো শবেবরাতে মানুষ তেমন একটা রুটি-হালুয়া, মাংস রান্না করে না। এজন্য এখন আর আসি না। এখান থেকে মাংস সংগ্রহ করে বাড়ি নিয়ে যাই। আমাদের এলাকার চেয়ে এখানে বেশি সংগ্রহ হয়। তাই প্রতিবছর কোরবানির ঈদের দিন ঈশ্বরদীতেই কাটিয়ে দেই।’

এসজে/জেআইএম