কোরবানির দিনে ধনীদের বাড়ি থেকে চেয়ে নিয়ে আসা মাংসের জমজমাট হাট বসেছে দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশনসহ শহরের বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে। এ হাটে যারা মাংস বিক্রি করছেন তাদের বেশিরভাগই ছিন্নমূল ও দরিদ্র শ্রেণির মানুষ। ক্রেতা মধ্যবিত্ত শ্রেণির লোকজন। যারা ক্রেতা তাদের বেশিরভাগই কোরবানি দিতে না পেরে মাংস কিনতে এসেছেন।
রোববার (১০ জুলাই) দুপুর থেকে ধীরে ধীরে বিক্রেতা এবং ক্রেতারা আসতে শুরু করেন। পশ্চিমাকাশে সূর্য যত হেলে পড়ছিল ক্রেতা এবং বিক্রেতাদের ভিড় ততই বাড়ছিল। দিনাজপুর রেলওয়ে স্টেশন ও আশপাশের মোড়গুলোতে এমন চিত্র দেখা যায়।
কেউ মাংস নিয়ে এলে হুমড়ি খেয়ে পড়ছিলেন ক্রেতারা। শহরের যেখানেই মাংসের ছোট ছোট জটলা দেখা গেছে, সেখানেই মাংস বিক্রির চিত্র চোখে পড়ে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন ওজন মাপার ডিজিটাল মেশিন বিক্রেতারা। প্রতিটি মাংসের পুটলি ওজনে ১০টি করে মাংসের টুকরা গুনে নিতে দেখা যায় তাদের। এসব মাংস কেজি ৫০০-৬০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়।
৮ নম্বর রেলঘুন্টি এলাকার ইয়াসিন আলী জাগো নিউজকে বলেন, ‘অনেক সময় দেখা যায় কোরবানির এক ভাগ গরিব ও আরেক ভাগ আত্মীয়-স্বজনের দেওয়ার পর নিজের ভাগের অংশ যা থাকে তা তার প্রয়োজনের তুলনায় কম। এজন্য তারাও এ মাংস কিনতে আসেন যাতে করে নিজেরাসহ বাড়িতে আসা আত্মীয়-স্বজনদের খাওয়ানো যায়। আবার অনেকে কোরবানি দিতে না পেরে এখান থেকে মাংস কিনে নিয়ে গেছেন।’
আসাদুল নামের এক মাংসবিক্রেতা বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। গত ঈদে ছেলেমেয়েদের জামা-কাপড় কিনে দিয়েছি। এবার পারিনি। সকাল থেকে মাংস চায়ে জমা করছি। এই মাংস থেকে নিজের জন্য কিছু রেখে বাকিটা বিক্রি করতে আনছি। খালি মাংস খায়ে পেট তো আর ভরবে না। এই মাংস বিক্রি করে চাল কিনবো। তেল আছে মসলা আছে।’
রশিদ নামের আরেক বিক্রেতা বলেন, ‘মাংস জোগাড় করে যা পাইছি নিজের জন্য রেখে বাকিটা বিক্রি করতে আনছি। এগুলো বিক্রি করে বাড়িতে খাওয়ার অন্য কিছু কিনবো। গরিব মানুষ, আর কী করার।’
মৌসুমী নামের এক নারী বলেন, ‘আমার কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য নেই। মানুষের বাড়ি কাজ করে খাই। চাইতেও পারি না। এখানে তাই কোরবানির মাংস কিনতে আসছি। এখান থেকে মাংস কিনে নিয়ে যাবো। বাচ্চারা কোরবানির মাংস খেতে চেয়েছে।’
এমদাদুল হক মিলন/এসআর/এএসএম