বাগেরহাটের মোংলায় লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ ব্যবসায়ীরা। ঘন ঘন বিদ্যুৎ যাওয়ায় কারখানা ও দোকানের মালামাল নষ্টের পাশাপাশি কমে গেছে বেচাকেনাও। আর লোডশেডিংয়ের কারণে শিক্ষার্থীদেরও পড়াশোনায় ক্ষতি হচ্ছে।
রোববার দুপুর ১২টায় বিদ্যুৎ গিয়ে আসে এক ঘণ্টা পর দুপুর ১টায়। এভাবেই দুপুর, বিকেলে, সন্ধ্যা, রাত ও ভোরে একাধারে চলছে লোডশেডিং। এতে চরম ক্ষতি ও ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় কলকারখানা মালিক, মিষ্টান্নের দোকান, হোটেল-মোটেল, মুদি ও খাবারসহ বিভিন্ন দোকানি। মালামাল নষ্টসহ বেচাকেনা কমে গেছে ব্যবসায়ীদের। লোডশেডিংয়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও দোকানপাটে ভূতুরে অবস্থা। গরমে দোকানে বসে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন দোকানি ও কারখানা সংশ্লিষ্টরা। লোডশেডিংয়ের সময় কেউ কেউ বিকল্প ব্যবস্থায় লাইটের ব্যবস্থা করলেও তাতে ব্যয় বাড়ছে।
পৌর শহরের শেখ আ. হাই সড়কে ভ্যারাইটি পণ্যের দোকানি মো. জালাল হোসেন বলেন, দিনে তিন-চারবার বিদ্যুৎ যাচ্ছে। এতে দোকানের ফ্রিজে থাকা বিভিন্ন পণ্য নষ্ট হচ্ছে। অন্ধকারে দোকানের মাল নামানো যায় না। আর কাস্টমাররাও আসেন না। বেচাকেনা অনেক কমে গেছে।
সুতা, ব্যাগ ও খেলনা পণ্যের দোকানি মো. বুলবুল বলেন, লোডশেডিং দিলে দোকান অন্ধকার হয়ে যায়। নিজেরাও বসা যায় না। ক্রেতারাও ঢোকেন না। আইপিএস লাগিয়ে আলোর ব্যবস্থা করেছি। বেচাকেনা করতে গিয়ে খরচ ও কষ্ট বেশি হয়ে যাচ্ছে।
বরিশাল বেকারির মালিক মো. সোহেল বলেন, লোডশেডিং নিয়ে বড় বিপদে আছি। প্রতিদিন কারখানার কাঁচামাল নষ্ট হচ্ছে। কারণ, ঘোষণা ছাড়া যখন তখন লোডশেডিং দেওয়ায় কারখানায় তৈরি বিস্কুট, রুটি ও কেকসহ নানা খাবার নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
সার ও কীটনাশক দোকানি মো. আবুল হোসেন খান বলেন, লোডশেডিংয়ে তিন/চার ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে লোডশেডিংয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ছি। দোকানের বেচাকেনা অর্ধেকে নেমেছে। কারণ বিদ্যুৎ না থাকলে অন্ধকার ও গরমে লোকজন আসে না। আবার রাত ৮টায় দোকান বন্ধ করে দিতে হয়। ভীষণ সমস্যায় আছি যা বলে শেষ করা যাবে না।
সাতক্ষীরা ঘোষ ডেইরির মালিক উত্তম কুমার বলেন, লোডশেডিংয়ে ফ্রিজ ও ফ্যান চালাতে না পারায় গরমে মিষ্টিসহ বিভিন্ন খাবার নষ্ট হচ্ছে। কোনো কাস্টমার লোডশেডিং চলাকালে দোকানে আসে না। বিভিন্ন কাঁচামালও নষ্ট হচ্ছে।
এদিকে, সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ না থাকায় শিক্ষার্থীদের পড়াশোনারও মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অভিভাবকরা। এছাড়া বাড়িঘরে রান্নাবান্নাসহ নানা ধরনের সমস্যা হচ্ছে প্রতিনিয়তই।
শেহলাবুনিয়ার দীনেশ সাহা, নিলিমা বিশ্বাস ও মাদরাসা রোডের তরুণ চন্দ জানান, সন্ধ্যায় লোডশেডিং হওয়ায় ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার ভীষণ ক্ষতি হচ্ছে। সামনে পরীক্ষা, এভাবে চলতে থাকলে লেখাপড়ার বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যাবে।
কলেজ মোড়ের বাসিন্দা এমরান হোসেন বলেন, লোডশেডিংয়ে শুধু বাড়িতে পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে না। স্কুলেও গরমে ক্লাস করতে পারছে না শিশু-কিশোররা। অতিরিক্ত গরমে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এতেও তাদের পড়াশোনার ক্ষতি হচ্ছে।
স্থানীয় পিডিবি কর্তৃপক্ষ প্রতিদিন দুই ঘণ্টা লোডশেডিং দেওয়ার ঘোষণা দিলেও তা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। এ বিষয়ে জানতে চাইলে পিডিবি মোংলার আবাসিক প্রকৌশলী মো. ফরহাদ হোসেন বলেন, এখানে ৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ রয়েছে ৩০ মেগাওয়াট। তারপরও সরকারের নির্দেশনা মোতাবেক দিনে ও রাতে দুইবার লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ দিনে তিন/চার বার বিদ্যুৎ যাচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, লোডশেডিং দুইবার আর বাকি সময় বৈদ্যুতিক ত্রুটির কারণে হচ্ছে।
এমআরআর/এএসএম