দেশজুড়ে

নোয়াখালীতে মিশুকচালক হত্যায় আরেক আসামি গ্রেফতার

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে মিশুকচালক বলরাম মজুমদার হত্যা মামলায় নাজমুল হাসান (৩২) নামে আরও এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

শুক্রবার (১২ আগস্ট) গ্রেফতার নাজমুলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকার মোহাম্মদপুর হাউজিং এলাকার একটি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

নাজমুল হাসান বরিশাল এয়ারপোর্ট থানার শিবপাশা গ্রামের রায়পাশা এলাকার মৃত হাকেম আলী হাওলাদারের ছেলে। তিনি বর্তমানে ঢাকার মোহাম্মদপুর এলাকার সি-ব্লকের এক নম্বর রোডের ৪ নম্বর বাড়িতে বসবাস করেন।

নোয়াখালী পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, মিশুকচালক বলরাম মজুমদার (১৫) হত্যা মামলায় গ্রেফতার প্রধান আসামি শ্যামল চন্দ্র দাস (৩২) বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে নাজমুল হাসানসহ আরও দুজনের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরে ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফজলুল হক ও বেগমগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ অভিযান চালিয়ে ঢাকা থেকে নাজমুল হাসানকে গ্রেফতার করে।

এর আগে বুধবার (১০ আগস্ট) রাতে কোম্পানীগঞ্জ ও সেনবাগ থেকে শ্যামল চন্দ্র দাস (৩২) ও আবদুল খালেক তোতা মিয়া (৫২) নামে দুই আসামিকে গ্রেফতার করে ডিবি। গ্রেফতার শ্যামল সেনবাগ উপজেলার নবীপুর ইউনিয়নের নলদিয়া গ্রামের নারায়ণ চন্দ্র দাসের ছেলে ও আবদুল খালেক কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সিরাজপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত মোস্তফা মিয়ার ছেলে।

নোয়াখালী জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, আসামিদের স্বীকারোক্তি মতে ১০ টাকা ভাড়া নিয়ে ঝগড়ার জেরে পরিকল্পিতভাবে মিশুকচালক বলরাম মজুমদারকে হত্যা করা হয়। পরে তার মিশুকটি বিক্রি করে টাকা ভাগ করে নেন আসামিরা। পলাতক আরও এক আসামিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

তিনি বলেন, বলরাম মজুমদার হত্যার ক্লু-লেস মামলাটি গত ১ মার্চ ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। পরে উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল হাশেম মজুমদার তদন্ত করে চার আসামিকে শনাক্ত করেন। তাদের মধ্যে আসামি শ্যামল চন্দ্র দাস, আবদুল খালেক তোতা মিয়া ও নাজমুল হাসানকে গ্রেফতার করা হয়। তারা বলরামকে শ্বাসরোধ করে হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। পলাতক আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান চলেছে।

এর আগে গত ৩১ জানুয়ারি দুপুরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের বকসি ব্যাপারী বাড়ির সামনের ধানক্ষেত থেকে বলরামের হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত বলরাম কোম্পানীগঞ্জের চরহাজারী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের সনাতন মহাজন বাড়ির লনি গোপালের ছেলে।

ইকবাল হোসেন মজনু/আরএইচ/এএসএম