জাতীয়

ধূমপানমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে প্রতিবন্ধকতা পলিসি দুর্বলতা

একদিকে প্রধানমন্ত্রী ধূমপানমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দিয়েছেন, অন্যদিকে সরকারের একাধিক সচিব একটি সিগারেট কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদে রয়েছেন। আবার জাতীয় বাজেটে তামাক কোম্পানিগুলোকে সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এমন দুর্বল পলিসির কারণে বাংলাদেশে তামাক ব্যবহারকারীর সংখ্যা কমার বদলে উল্টো আরও বেড়েছে বলে অভিমত দিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। ‘তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গঠনে করণীয়’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় বক্তরা এ অভিমত ব্যক্ত করেন।

রোববার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে আহছানিয়া মিশন। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। বিশেষ অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত। ঢাকা আহছানিয়া মিশনের নির্বাহী পরিচালক সাজেদুল কাইয়ুম অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তামাকমুক্ত বাংলাদেশর ঘোষণা দিয়েছেন। আমি শতভাগ সততার সঙ্গে এ লক্ষ্যে কাজ করবো। শুধু তামাক না, বিভিন্ন রকমের মাদক আমাদের ক্ষতি করছে। এই বাংলাদেশ তো আমরা চাইনি।

তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, মানুষকে সচেতন করতে পারলে অর্ধেক লড়াইটা আমরা জিতে যাবো। আমিও ৫০ বছর সিগারেট খেয়েছি। গত ৩ বছর ছেড়ে দিয়েছি। এখন মনে হয় আমি কত মানুষের ক্ষতি করেছি। দূষিত হাওয়া বাতাসে ছেড়েছি। আমি যা করেছি, তার জন্য অনুশোচনা আমার আছে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাবের হোসেন চৌধুরী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার জনপ্রতিনিধিদের সামনে ২০১৬ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন তামাকমুক্ত দেশ গড়তে হবে। শতভাগ তামাকমুক্ত করা সম্ভব নয়, তবে ৫ শতাংশের নিচে নামিয়ে আনতে পারলে আমরা বলতে পারবো তামকামুক্ত বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে ২০০৯ সালে তামাকসেবী ছিল ৪৩ শতাংশ। ২০১৭ সালে হয়েছে ৩৫ শতাংশ। তামাকসেবীর হার কমলেও বাস্তবে বেড়েছে। কারণ এখন জনসংখ্যা বেড়েছে। আগে ৩ কোটি মানুষ তামাকসেবী ছিল। এখন সেই সংখ্যা ৪ কোটির বেশি। এভাবে চলতে থাকলে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়ন কখনো সম্ভব নয়। কারণ এটা একটা মহামারি। তামাকে এক বছরে ৩ লাখ ২০ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। এ হিসাব বর্তমানে আরও বাড়তে পারে। যা করোনার দুই বছরে মৃত্যুর চেয়েও বেশি।

সাবের হোসেন চৌধুরী আরও বলেন, একদিকে প্রধানমন্ত্রীর তামাকমুক্ত বাংলাদেশের ঘোষণা, অন্যদিকে বাজেটে তামাক কোম্পানিগুলোকে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়। অর্থমন্ত্রণালয় তামাকের দাম বাড়িয়ে দিয়ে সেই বাড়তি দামের ওপরে কর আরোপ করছে। পৃথিবীর কোনো জায়গায় এমন নেই।

এই সংসদ সদস্য বলেন, ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানিতে সরকারের শেয়ার আছে শূন্য দশমিক ৬৪ শতাংশ। অর্থাৎ এক শতাংশের কম। অথচ এই কোম্পানির ৪০ শতাংশ পরিচালক সরকারের সচিব। এই দ্বৈত নীতি থেকে সরে আসতে না পারলে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব না।

অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত বলেন, আমি যে নিকোটিন নেই, সেখান থেকে যে ধোঁয়া বের হয় তা আমার স্ত্রী-সন্তান গ্রহণ করলে সমান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই তামাক নিয়ন্ত্রণে শুধু আইন করে লাভ হবে না। মানুষকে সচেত করতে হবে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন ধরনের মাদক বের হয়েছে। এখন কম্পিউটারের চিপের মতোও মাদক আছে। ছোট বাচ্চারা বাজারে গিয়ে এটা কিনে আনে। বাবা-মা প্রশ্ন করলে বলে কম্পিউটারের চিপ। আসলে এটা নিকোটিন।

অধ্যাপক ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত আরও বলেন, সব ধর্মেই মাদক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সুরা আল বাকারায় বলা হয়েছে- ‘আপচয় করবেন না’। ধূমপান কিন্তু অপচয়। হিন্দু, খ্রিস্টান, বৌদ্ধ সব ধর্মে মাদক নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বৌদ্ধ ধর্মে বলা হয়েছে, আমরা মাদক নেবো না, মাদক বিক্রিও করবো না।

এমএএস/কেএসআর/জিকেএস