কক্সবাজারের চকরিয়ায় পিকআপচাপায় ছয় ভাইয়ের মৃত্যুর ঘটনায় তাদের পরিবারের সদস্যদের পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ কেন দেওয়া হবে না জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট।
স্বরাষ্ট্র সচিব, সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগ সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ), বিআরটিএর ট্রাস্টি বোর্ডসহ ১১ জনকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।
একই সঙ্গে চকরিয়ার মালুমঘাট হাইওয়েতে অনুমোদিত ও অনিবন্ধিত যান চলাচল এবং ওই দুর্ঘটনার কারণে তাদের পরিবারের কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা নিরূপণের জন্য কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। আগামী ৪ ডিসেম্বর আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ রুলসহ আদেশ দেন। আদালতে আজ রিটের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী সৈয়দা নাসরিন ও মো. শাহীনুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায়।
আদেশের বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী সৈয়দা নাসরীন ও আইনজীবী অ্যাডভোকেট শাহীনুজ্জামান শাহীন।
চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি বাবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় চকরিয়া উপজেলার মালুমঘাট এলাকায় পিকআপচাপায় নিহত হন ছয় ভাই। পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, পিকআপভ্যানের চালক ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। তবে পরিবারের সদস্যদের দাবি, এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সাত ভাই ও এক বোন সড়কের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে পিকআপচালক সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করে র্যাব। তার ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিল না বলে সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানায়। এ ঘটনায় বিআরটিএ, সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ এবং হাইওয়ে পুলিশের সমন্বয়ে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। বেপরোয়া গতি ও কুয়াশার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানায় তদন্ত কমিটি।
এ সংক্রান্ত জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদন যুক্ত করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চেয়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্র, বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী উজ্জ্বল পাল ও জাহিদ হোসেন দোলন রিটটি করেন।
এফএইচ/এসএএইচ/জেআইএম