স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব দিতে প্রথমবারের মতো দুদক সমন্বিত কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ে কোনো সংসদ সদস্য ও তার স্ত্রী-সন্তানদের হাজির হতে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদক সম্বন্বিত কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রিয়াজ উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে রোববার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জাফর আলম, তার স্ত্রী শাহেদা বেগম ও তাদের মেয়ে তানিয়া আফরিন এবং ছেলে তানভীর আহমদ সিদ্দিকী তুহিনকে (তুহিন আলম) হাজির হতে বলা হয়। নির্দিষ্ট সময় হাজির না হলে অভিযোগের বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য নেই মর্মে গণ্য করা হবে বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।
তবে চিঠির নির্ধারিত দিনে (রোববার) দুদক কক্সবাজার কার্যালয়ে আসছেন না এমপি জাফর ও তার স্ত্রী-সন্তানরা। তারা ২০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন দুদকের তদন্ত কর্মকর্তা। সেদিনই এমপি জাফর স্বপরিবারে দুদকের কার্যালয়ে আসবেন বলে উল্লেখ করেন তারা।
দুদক সূত্র জানায়, সংসদ সদস্য জাফর আলমের ক্ষমতা ও প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তার স্ত্রী শাহেদা বেগম সরকারি জমি, চিংড়ির ঘের, জলমহাল দখল, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি এবং অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে অভিযোগ আনা হয়। এই অভিযোগের তদন্তের জন্য সংসদ সদস্য জাফর আলম ও তার স্ত্রী সন্তানদের ৪ সেপ্টেম্বর দুদকের কক্সবাজার কার্যালয়ে ডাকা হয়েছিল। তবে ৪ সেপ্টেম্বরের পরিবর্তে তারা সবাই আসবেন ২০ সেপ্টেম্বর।
অভিযুক্ত শাহেদা বেগম তার বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগগুলোর ভিত্তি নেই দাবি করে বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তার বিরুদ্ধে দুদকে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে।
এদিকে স্ত্রী-সন্তান ও নিজের সম্পদের অনুসন্ধানকে চিহ্নিত মহলের ষড়যন্ত্র দাবি করে এমপি জাফর আলম বলেন, ৪ সেপ্টেম্বর চকরিয়া পৌরসভা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ও কাউন্সিল। এই কারণে আমি দুদকে সময় চেয়েছি। ২০ সেপ্টেম্বর আমাদের পরিবর্তিত দিন।
দুদক সমন্বিত কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রিয়াজ উদ্দিন বলেন, রোববার এমপি জাফর আলম ও তার স্ত্রী- সন্তানরা দুদক কার্যালয়ে আসছেন না। দলীয় প্রোগ্রামের কারণে সংসদ সদস্য ব্যস্ত থাকবেন জানিয়ে কমিশনে সময় প্রার্থনা করেন। আগামী ২০ সেপ্টেম্বর তারা দুদক কক্সবাজার কার্যালয়ে হাজির হবেন।
এর আগে, গত ২১ জুলাই দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপ-পরিচালক (অনু: ও তদন্ত-৫) খান মো. মাজানুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক স্মারকে সংসদ সদস্য জাফর আলমের স্ত্রী শাহেদা বেগমের সম্পদ তদন্তের নির্দেশনা দেওয়া হয়।
দুদকের সেই স্মারক সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, শাহেদা বেগমের বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখল, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি এবং অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এর প্রেক্ষিতে তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দুদক সমন্বিত কক্সবাজার জেলা কার্যালয়ের উপ-পরিচালককে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এরই প্রেক্ষিতে এমপির পরিবারকে সম্পদের বিবরণ দিতে ৪ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারে ডাকা হয়েছিল। কিন্তু সময় প্রার্থনা করায় আগামী ২০ সেপ্টেম্বর তাদের পরিবর্তিত দিন নির্ধারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক সূত্র।
সায়ীদ আলমগীর/এফএ/এমএস