নওগাঁয় ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ইসিজি ও ডায়াবেটিস পরীক্ষায় রশিদ বহির্ভূত টাকা আদায় করায় আউটসোর্সিংয়ে কর্মরত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেছেন এক রোগীর স্বজন। মঙ্গলবার (২০ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় রশিদ বহির্ভূত টাকা আদায়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগকারী এনামুল হক লিটন শহরের চকপ্রাণ মহল্লার বাসিন্দা।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (১৮ জুলাই) রাত ৮টার দিকে এনামুল হক লিটন তার অসুস্থ মা লিলিফা বেগমকে হাসপাতালের নিয়ে যান। ওই মুহূর্তে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. নাজিয়া তাসনিম রোগীকে দেখার পর ইসিজি ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করতে বলা হয়। তাৎক্ষণিক জরুরি বিভাগের সামনে থাকা ইসিজি কক্ষটি তালাবদ্ধ পাওয়া যায়। প্রায় ২০ মিনিট অপেক্ষার পর ইতি নামে এক আউটসোর্সিং কর্মচারী এসে তালা খুলে কক্ষে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি ইসিজি ও ডায়াবেটিস পরীক্ষা করে নগদ ১৭০ টাকা নেন। তখন টাকার রশিদ চাওয়া হলে পরে রিয়াজুল নামে আরেকজনের কাছ থেকে নিতে বলা হয়।
এদিকে, হাসপাতালের ষষ্ঠ তলায় মা লিলিফা বেগমকে ভর্তির কিছুক্ষণ পর নিচ তলায় আবারও রশিদ চাইতে আসেন লিটন। সেখানে দায়িত্বরত রিয়াজুল রশিদ দিতে অস্বীকৃতি জানান।
এনামুল হক লিটন বলেন, ডাক্তারের নির্দেশনায় জরুরি বিভাগে মায়ের ইসিজি ও ডায়াবেটিস পরীক্ষার পর বিল হিসেবে নগদ ১৭০ টাকা দিই। ইতি নামে ওই নারীর কাছে এ টাকার রশিদ চাওয়া হলে রিয়াজুলের কাছ থেকে নিতে বলা হয়। কিন্তু রিয়াজুল রশিদ দিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক (সুপার) এর জবাব দেবের বলে জানান।
তিনি আরও বলেন, তাৎক্ষণিক বিষয়টি ভারপ্রাপ্ত আরএমও ডা. আনছার আলীকে জানানোর জন্য কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে মনে হয়েছে আমরা প্রতারিত হচ্ছি এবং সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এর সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত আউটসোর্সিং কর্মচারী রিয়াজুল ইসলাম বলেন, ইসিজি পরীক্ষার রশিদ আমার কাছে থাকে। ওই মুহূর্তে আমি বাহিরে থাকায় একজন রোগীর ইসিজি করার পর রশিদ দিতে পারিনি। তবে পরে তাকে এসে রশিদ সংগ্রহ করতে বলা হয়েছিল। তত্ত্বাবধায়ক স্যারের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (ভারপ্রাপ্ত আরএমও) ডা. আবু আনছার আলী বলেন, নির্ধারিত ফি দিয়েই সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। ইসিজি ও ডায়াবেটিস পরীক্ষায় রশিদ বহির্ভূতভাবে টাকা আদায়ের অভিযোগটি আমার জানা নেই। এবিষয়ে তত্ত্বাবধায়ক স্যারকে কেউ অভিযোগ করে থাকলে তিনি অবশ্যই ব্যবস্থা নেবেন।
বিষয়টি নিয়ে জানতে নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জাহিদ নজরুল চৌধুরীর ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
আব্বাস আলী/এমআরআর/এমএস