দেশজুড়ে

শ্রেণিকক্ষ সংকটে ব্যাহত পাঠদান

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ৯৬নং সিদ্ধিরগঞ্জ দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ দিন ধরে চলছে শ্রেণিকক্ষ সংকট। ফলে ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রেণি কক্ষের সংকট থাকায় শিক্ষার্থীরা গাদাগাদি করে ক্লাস করছে। শিক্ষার্থী সংখ্যা বেশি হওয়ায় চার শিফটে ক্লাস করাতে হচ্ছে। ফলে শিক্ষকদের নাজেহাল অবস্থা।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ে সবসময় শিক্ষার্থীদের চাপ থাকে। বর্তমানে এই বিদ্যালয়ে ১০ শিক্ষক এবং প্রায় সাড়ে ৭ শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে। ছয় তলা ফাউন্ডেশনের একতলা ভবনে শ্রেণিকক্ষ রয়েছে মাত্র পাঁচটি। যা শিক্ষার্থীর তুলনায় খুবই কম।

সুমাইয়া আক্তার নামের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানান, ক্লাসরুম কম থাকায় এক রুমে অনেক শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে ক্লাস করতে হয়। এতে পড়া ঠিকমতো বুঝতে পারি না।

চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থীর এক অভিভাবক জানান, এ এলাকায় দরিদ্র মানুষের বসবাস বেশি। আশপাশে কোনো সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় না থাকায় বাচ্চাদের এখানেই পড়াতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে ৯৬নং সিদ্ধিরগঞ্জ দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আ. ছাত্তার জানান, ২০০৮ সাল থেকে এ সমস্যা ভুগছি। বিষয়টি জেলা শিক্ষা অফিসারকে জানানো হয়েছে। শুনেছি দুই মাস আগে বিদ্যালয়টি ছয়তলা করার জন্য দেড় কোটি টাকার বিল পাস হয়েছে। যদি ক্লাসরুম সংকটের সমাধান হয় তাহলে শিক্ষকরা আরও ভালো করে পাঠদান করাতে পারবে। এতে শিক্ষার্থীরাও ভালো ফলাফল করবে।

তিনি আরও জানান, গতবছর এ বিদ্যালয়ের থেকে পাঁচ শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছে। এছাড়া সবসময় পাবলিক পরীক্ষায় আমাদের শিক্ষার্থীরা শতভাগ পাস করে। ক্লাসরুম সংকটের কারণে যেখানে একটি ক্লাসে ৪০ শিক্ষার্থীকে পাঠদান করানোর কথা সেখানে ৮০-৯০ শিক্ষার্থীকে বসানো হচ্ছে। এতে শিক্ষকদের ঠিকমতো পড়াতে সমস্যা হচ্ছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা প্রকৌশলী মোসা. শামসুন নাহার জানান, গত জুনে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছিলো। সেটা হেড কোয়াটারে পাঠানোর পর বাতিল হয়েছে। ফলে রি-টেন্ডার আহ্বানের প্রক্রিয়া চলছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসার মোসাম্মৎ জাহানারা খানম বলেন, শুনেছি নতুন শ্রেণিকক্ষের জন্য টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। আশাকরি দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে।

রাশেদুল ইসলাম রাজু/এএইচ/জিকেএস