যশোরে শিশু সানজিদা জান্নাত মিষ্টি (৪) হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন প্রতিবেশী আঞ্জুয়ারা বেগম (৪০)। রোববার (২ অক্টোবর) আদালতে তিনি এই জবানবন্দি দিয়েছেন। এই জবানবন্দির সূত্র ধরে পুলিশ মরদেহ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে প্রতিবেশী আরেক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে। তারা হলেন- যশোর সদর উপজেলার আরবপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পতেঙ্গালী গ্রামের আব্দুল মালেক গাজী (৬৫) ও তার স্ত্রী খাদিজা বেগম (৫০)।
যশোর পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ওসি রূপন কুমার সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মিষ্টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তার বাবা সোহেল রানা কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন।
ডিবির ওসি রূপন কুমার সরকার বলেন, মিষ্টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেফতার আঞ্জুয়ারা খাতুনকে রোববার আদালতে তোলা হয়। এসময় তিনি পূর্ব আক্রোশে মিষ্টিকে খুন করার কথা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানিয়েছেন। সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলাম জবানবন্দি শেষে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার বিবরণে জানা গেছে, গ্রেফতার আঞ্জুয়ারা স্বামীসহ বর্তমানে সদর উপজেলার পতেঙ্গালী গ্রামে বসবাস করেন। আঞ্জুয়ারা ও তার স্বামী রেজাউল ওরফে রেজা মাদক চোরাচালান ও পাচারকারী দলের সদস্য। তাদের বাড়ি বেনাপোলের পুটখালী হলেও বিভিন্ন এলাকায় অবস্থান করেন। আঞ্জুয়ারা ও তার স্বামী রেজার বিভিন্ন অপকর্মের খবর জানতেন মিষ্টির মা শরিফা খাতুন। এছাড়া আঞ্জুয়ারার অপূর্ব হাসান নামে সাত বছরের শারীরিক প্রতিবন্ধী একটি ছেলে আছে। মাঝেমধ্যে খেলাধুলা করার সময় মিষ্টির সঙ্গে অপূর্বর হাতাহাতি ও মারামারি হয়। মাঝেমধ্যে অপূর্বকে পাগল বলেও গালি দিতো মিষ্টি। সব মিলিয়ে মিষ্টির পরিবারের প্রতি প্রতিহিংসা জন্ম নেওয়ায় তাদের ক্ষতি করার জন্য সুযোগ খুঁজতে থাকেন আঞ্জুয়ারা ও তার স্বামী। এরই সূত্র ধরে শনিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে আপেল খাওয়ানোর কথা বলে বাড়িতে ডেকে সানজিদা মিষ্টিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
এ ঘটনায় শনিবার রাত ১১টার দিকে সন্দেহমূলকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে আঞ্জুয়ারা পুলিশের কাছে মিষ্টিকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পরে তার তথ্য মতে মিষ্টির মরদেহ আঞ্জুয়ারার চালের ড্রামের মধ্যে থেকে উদ্ধার করা হয়। পুলিশ সুরতহাল শেষে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। রোববার এ ঘটনায় নিহত মিষ্টির বাবার করা মামলায় আঞ্জুয়ারাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়। আঞ্জুয়ারা এরপরে আদালতে মিষ্টিকে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, মরদেহ গুমে সহযোগিতার অভিযোগে তারই প্রতিবেশী দম্পতি আব্দুল মালেক গাজী ও খাদিজা বেগমকে রোববার রাত ১০টার দিকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মফিজুল ইসলাম বলেন, মিষ্টি হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার আঞ্জুয়ারা হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। তার জবানবন্দি অনুযায়ী আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
মিলন রহমান/এমআরআর/এএসএম