দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে চাষাঢ়া-খাঁনপুর-হাজীগঞ্জ-গোদনাইল-আদমজী ইপিজেড সড়ক নির্মাণকাজ। এরই মধ্যে প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি অংশের কাজ চলমান। সড়কটি হলে কমবে যানজট। নারায়ণগঞ্জ থেকে সিদ্ধিরগঞ্জে স্বস্তিতে যাতায়াত করতে পারবে মানুষ। এছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলবে এমনটাই মনে করছেন স্থানীয়রা।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) সূত্রে জানা যায়, ১১৩ কোটি ৫১ লাখ ৬৯ হাজার টাকা ব্যয়ে ২০১৯ সালের ১৮ নভেম্বর চাষাঢ়া-খাঁনপুর-হাজীগঞ্জ-গোদনাইল-আদমজী ইপিজেড সড়ক নির্মাণের অনুমোদন দেওয়া হয়। সড়কটির নাম রাখা হয়েছে ‘বেগম নাগিনা জোহা সড়ক’।
প্রথমে মেয়াদকাল ধরা হয়েছিল ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২১ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। সময় বাড়িয়ে নির্মাণ কাল ধরা হয়েছে ২০২১ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৩ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। চলতি অর্থবছরের বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ২০ কোটি টাকা। সড়কটি প্রশস্ত হবে ৪২ ফুট। সড়কে ১৯ মিটার দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট তিনটি ব্রিজ ও ৬ মিটার দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট একটি কালভার্ট আছে।
দুই লেনের এ সড়কটির মোট দৈর্ঘ্য ৬.৫৮ কিলোমিটার। সড়কের কাজটি তিনটি প্যাকেজের মাধ্যমে করছে সওজ। এর মধ্যে প্রথম (চাষাঢ়া-আইটি স্কুল এলাকা) ও তৃতীয় প্যাকেজের (গোদনাইল আরকে গার্মেন্ট-আদমজী ইপিজেড) কাজ শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় প্যাকেজের (পাঠানটুলী-গোদনাইল) কাজ এখনো চলমান। সড়ক থেকে পুরনো বৈদ্যুতিক খুঁটি না সরানো ও রেলওয়ের কিছু জায়গা অধিগ্রহণ জটিলতার কারণে এ প্যাকেজটি আটকে আছে বলে জানা গেছে। এছাড়া পুরো সড়কজুড়ে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৮০টি ল্যাম্পপোস্ট রয়েছে। এগুলো সড়ক থেকে না সরানোর কারণে কাজের বিঘ্ন ঘটছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বর্তমানে পুরাতন নারায়ণগঞ্জ-শিমরাইল-ডেমরা যে সড়কটি আছে তার পাশে গড়ে উঠেছে আদমজী ইপিজেড। এখানে প্রায় ৫৪ হাজার শ্রমিক কাজ করছে। বিকল্প সড়ক না থাকায় শ্রমিকরা পুরোনো সড়ক দিয়েই যাতায়াত করেন। এছাড়া সড়কের পাশে সিদ্ধিরগঞ্জে গড়ে উঠেছে নারায়ণগঞ্জ সাইলো (খাদ্য গুদাম), গোদনাইলে গঠে উঠেছে পদ্মা ওয়েল কোম্পানির ডিপো ও মেঘনা পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের ডিপো। এ ডিপো দুটি থেকে প্রতিদিন কয়েকশ ট্যাংকলরি জ্বালালি তেল নিয়ে বিভিন্ন স্থানে পুরোনো দিয়ে যাতায়াত করছে। নারায়ণগঞ্জ সাইলো থেকে গম বোঝাই করেও অসংখ্য ট্রাক এ সড়ক দিয়ে বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে।
এছাড়া সড়কের আশপাশে গড়ে উঠেছে গার্মেন্টস কারখানাসহ অসংখ্য শিল্পকারখানা। ফলে পুরোনো সড়কটি সবসময় ব্যস্ত থাকছে। ফলে প্রায় সময় যানজট সৃষ্টি হয়। পোহাতে হয় চরম দুর্ভোগ। তবে নতুন সড়ক নির্মাণ হলে নিরসন হবে দুর্ভোগ।
আহসান উল্লাহ নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, বর্তমানে শিমরাইল মোড় থেকে আদমজী হয়ে নারায়ণগঞ্জ যে সড়কটি আছে তাতে সবসময় যানজট লেগে থাকে। তীব্র যানজটের কারণে চিটাগাংরোড থেকে নারায়ণগঞ্জে যেতে আমাদের মাঝেমধ্যে এক ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায়। ফলে আমাদের সময়ের অপচয় হয়। নাগিনা জোহা সড়কটির কাজ শেষ হলে আমাদের এখানকার যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে।’
রফিকুল ইসলাম নামে এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘সড়কটি হলে ব্যবসায়ীরা খুব উপকৃত হবো। সিদ্ধিরগঞ্জে ব্যবসার আরও প্রসার ঘটবে। এতদিন আমাদের এক জায়গা থেকে আরেক জায়গায় মালামাল পাঠাতে অনেক সময় লেগে যেত। এখন অল্প সময়েই তা সম্ভব হবে।’
আফসানা মিমি নামের এক চাকরিজীবী বলেন, ‘নতুন সড়কের নির্মাণ কাজ শেষ হলে আমরা খুব সহজেই এক স্থান থেকে আরেক স্থানে যাতায়াত করতে পারবো। বর্তমানে অফিস ছুটি হলে তীব্র যানজটের কারণে হেঁটে বাসায় যেতে হয়। তখন সে কষ্ট আর থাকবে না।’
নারায়ণগঞ্জ সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী সামিউল কাদের খান জাগো নিউজকে বলেন, সব মিলিয়ে সড়কটির প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। বাকি ২৫ শতাংশ কাজ চলমান। তবে রেলওয়ের জমি অধিগ্রহণ নিয়ে যে জটিলতা আছে তা সমাধানের জন্য চিঠি দিয়েছি। এছাড়া সড়ক থেকে বৈদ্যুতিক খুঁটি সরানোর জন্য ডিপিডিসিকে বিষয়টি কয়েকবার জানিয়েছি। কিন্তু এখনো পর্যন্ত তারা সড়ক থেকে বৈদ্যুতিক খুঁটি সরায়নি।
তিনি আরও বলেন, এলাকায় সড়কে ডিএনডি প্রজেক্টে দায়িত্বরত সেনাবাহিনীর কিছু দোকান আছে। বিষয়টি আমরা সেনাবাহিনীকে জানিয়েছি। আশা করছি তারা শিগগিরই দোকানগুলো সরিয়ে নেবে। এছাড়া সিটি করপোরেশনের যে ল্যাম্পপোস্ট আছে তা সরিয়ে নেওয়ার জন্য জানানো হয়েছে। এসব সমস্যাগুলো অতি দ্রুত সমাধান হলে আমরা নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সড়কটির নির্মাণ কাজ শেষ করতে পারবো।
সামিউল কাদের বলেন, সিদ্ধিরগঞ্জের বার্মাস্ট্যান্ড এলাকায় পদ্মা ও মেঘনা ডিপোর ট্যাংকলরি পার্কিং করে রাখায় সড়কটির বিটুমিন লেয়ার চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া কয়েকশ গাড়ি সড়কে পার্কিং করায় কিছু অংশ দখল হয়ে আছে। আমরা এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পুলিশ প্রশাসনকে কয়েকবার জানিয়েছি। কিন্তু প্রশাসন এখনো পর্যন্ত কোনো অ্যাকশন নেয়নি। ফলে নির্মাণাধীন সড়কটি চালু হওয়ার আগেই নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।
রাশেদুল ইসলাম রাজু/এসজে/জিকেএস