পৌর, সদর উপজেলা ও তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের আংশিক কমিটি গঠন নিয়ে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছেন কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক।
শনিবার (২২ অক্টোবর) রাতে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান অনিক তার ফেসবুক আইডিতে পাঁচটি আংশিক কমিটির তালিকা পোস্ট করেন। সেখানে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উভয়েরই স্বাক্ষর ছিল।
এদিকে রোববার (২৩ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জ তার ফেসবুক আইডিতে নাম পরিবর্তন করে পাঁচটি আংশিক কমিটির তালিকা পোস্ট করেন। ওই পোস্টকে কেন্দ্র করে বিভ্রান্তিতে পড়েন পদ-পদবি পাওয়া নেতাকর্মীরা। পাল্টাপাল্টি এ কমিটি নিয়ে ফেসবুকে সমালোচনার ঝড় ওঠে।
শেখ হাফিজের পোস্ট দেখে প্রতিবাদ জানিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে শহরে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন একাংশের নেতাকর্মীরা। তারা সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ ওরফে চ্যালেঞ্জকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।
এদিকে শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জের পোস্ট দেখে সভাপতি আতিকুর রহমান অনিক তার ফেসবুক পোস্টে উল্লেখ করেন, শনিবারের কমিটিই সঠিক। রোববার কোনো কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়নি। তার স্বাক্ষর জাল করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে। বিভ্রান্তি না হতে সবার প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
অন্যদিকে সভাপতির দেওয়া স্ট্যাটাসের ১০ মিনিট পর সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জ পাল্টা পোস্ট দেন। সেখানে তিনি লিখেন, শনিবারের যে কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল সেটা সঠিক নয়। আমার স্বাক্ষর ও সিল নকল করে বিভ্রান্ত ছড়ানো হয়েছে। বিভ্রান্ত না হতে অনুরোধ জানাচ্ছি।
এই দুই নেতার পাল্টাপাল্টি পোস্টের পর জেলা ছাত্রলীগের দপ্তর সম্পাদক রক্তিম ঘোষ স্বাক্ষরিত ছাত্রলীগের প্যাডে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়, শনিবার অনুমোদন দেওয়া পাঁচটি কমিটি সঠিক। রোববার কোনো কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়নি। কিছু অসাধু মহল স্বাক্ষর নকল করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তাই সবাইকে বিভ্রান্তি না হওয়ার আহ্বান।
সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পাল্টাপাল্টি এই কমিটি ঘোষণা ও স্ট্যাটাস নিয়ে চরম দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মধ্যে পড়েছেন সাধারণ নেতা-কর্মীরা। কমিটি অনুমোদন নিয়ে জেলা ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন। শনিবার ঘোষিত কমিটির নেতারা তাদের অনুসারী ও কর্মীদের জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জের হঠকারী ও দল ভাঙ্গনের স্ট্যাটাসের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে রোববার রাত সাড়ে ১০ টার দিকে কুষ্টিয়া শহরে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। শতাধিক নেতাকর্মী মজমপুর ট্রাফিক মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন।
নেতাকর্মীরা বলছেন, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের প্রকাশ্যে পাল্টাপাল্টি স্ট্যাটাস নিয়ে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের ভাঙ্গন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
কমিটির বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান অনিক জাগো নিউজকে বলেন, ‘২২ অক্টোবর ঢাকায় আমি ও সাধারণ সম্পাদক যৌথভাবে স্বাক্ষর করে পাঁচটি ইউনিটের আংশিক কমিটি অনুমোদন দিয়ে রাতেই কুষ্টিয়ায় ফিরে আসি। রোববার ঘোষিত কমিটিতে আমি স্বাক্ষর করিনি। হাফিজ আমার স্বাক্ষর জাল করে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন। আমি প্রয়োজনে এ ব্যাপারে আইনগত পদক্ষেপ নেবো।’
এদিকে সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জ জাগো নিউজকে বলেন, ‘কিছু অতি উৎসাহী নেতাকর্মী উসকে দিয়ে নোংরামি করছে। ছাত্রলীগ সুসংগঠিত দল। দলে কোনো বিশৃঙ্খলা মেনে নেওয়া হবে না। সভাপতিকেও অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে মিছিল হয়েছে।’
আল-মামুন সাগর/এসজে/এএসএম