দেশজুড়ে

দেড় বছরেই বেহাল ১০ কোটি টাকার সড়ক

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের নাসিক দুই নম্বর ওয়ার্ডের মৌচাক ক্যানেলপাড় থেকে লিংক রোড সড়কটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ভারী যানবাহন চলাচলের ফলে সড়কটির বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে খানাখন্দ। এতে চালক, পথচারী ও যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। প্রায়ই ঘটছে ছোটখাট দুর্ঘটনা।

শুক্রবার (২৮ অক্টোবর) মৌচাক ক্যানেলপাড়-লিংক রোডে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটির বিভিন্ন অংশে কার্পেটিং উঠে গেছে। ঝুঁকি নিয়ে যানবাহনগুলো চলাচল করছে। এতে প্রায়ই ঘটছে নানা দুর্ঘটনা। এরই মধ্যে অনেক যাত্রী অটোরিকশা থেকে পড়ে আহত হয়েছেন। বৃষ্টি হলে যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়ে যায় আরও কয়েকগুণ।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পাশে মৌচাক ক্যানেলপাড়-লিংক রোড পর্যন্ত ‘মুক্তিযোদ্ধা সড়ক’ নির্মাণ করা হয়। ২০২০ সালের ৩০ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী সড়কটির উদ্বোধন করেন। এই সড়কটি নির্মাণের পূর্বে সিদ্ধিরগঞ্জের বাসিন্দারা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক দিয়ে নারায়ণগঞ্জ যেতেন। মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেশি থাকায় মুক্তিযোদ্ধা সড়কটি নির্মাণ হওয়ার পর নারায়ণগঞ্জগামী বেশিরভাগ যানবাহনগুলো এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। এর ফলে ছোট-মাঝারি যানবাহন ছাড়াও প্রচুর পরিমাণে ভারী যানবাহন চলাচল ও যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং করে সড়কটি দখল করে রাখায় নির্মাণের এক বছর পরই বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে।

রফিক মিয়া নামে সিদ্ধিরগঞ্জের এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, সড়কটি নির্মাণ হওয়ার পর আমরা অনেক উপকৃত হয়েছিলাম। আমরা এ সড়কটি ব্যবহার করে খুব সহজেই মৌচাক থেকে নারায়ণগঞ্জ পৌঁছে যেতে পারি। কিন্তু রাস্তার বেহাল দশার কারণে এখন এই সড়কটি ব্যবহার করি না। অতি দ্রুত এই সড়কটি সংস্কার করা প্রয়োজন।

ইসমাইল হোসেন নামে এক রিকশাচালক বলেন, সড়কটির অবস্থা খারাপ হয়ে যাওয়ায় এবং সড়কের দুপাশে সবসময় বড় বড় গাড়ি পার্কিং করে রাখায় আমাদের এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে অনেক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। বড় যানবাহনগুলো সড়কটি দিয়ে চলাচল করতে পারলেও ছোট যানবাহনগুলো চলাচল করতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

নিরাপদ সড়ক চাইয়ের (নিসচা) নারায়ণগঞ্জ জেলার সভাপতি ডা. আল ওয়াজেদুর রহমান বলেন, মুক্তিযোদ্ধা সড়কটি উদ্বোধনের পর থেকেই বাইপাস সড়ক হিসেবে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের মতো কাজ করছে। কিন্তু এ সড়কে শৃঙ্খলা নেই। প্রচুর পরিমাণে ভারী যানবাহন এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। এর ফলে অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই রাস্তাটি নষ্ট হয়ে যায়।

তিনি বলেন, গত বর্ষাতে রাস্তার প্রায় ৬০ শতাংশ অংশই ভেঙে গেছে। ফলে প্রায়ই এই সড়কে নানা দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি, তারা যেন দ্রুত এ রাস্তাটি মেরামত করেন। আমরা প্রায়ই দেখি বিকেল থেকে এই সড়কটিতে বিভিন্ন ভারী যানবাহন রেখে সড়কটি দখল করে রাখা হয়। নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন জানান, এ সড়কটি নির্মাণ করার পর এলাকাবাসী অনেক উপকৃত হয়েছিলেন। কিন্তু মহাসড়কের ভারী যানবাহনগুলো এ সড়ক দিয়ে চলাচল করার ফলে সড়কের অনেক অংশতেই কার্পেটিং উঠে গেছে। এতে সড়কটি যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। আমরা চেষ্টা করছি দ্রুত এ সড়কটির সংস্কার করার। ফান্ড এলেই আমরা কাজ শুরু করে দেবো।

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আজগর হোসেন জানান, আমাদের ফান্ড স্বল্পতার কারণে এই সড়কটির সংস্কার কাজ শুরু করতে একটু দেরি হচ্ছে। তবে চেষ্টা করছি খুব দ্রুত কাজ শুরু করবো।

গাড়ি পার্কিং ও ভারী যানবাহন চলাচলের বিষয়ে তিনি বলেন, সড়ক তো সবসময় আমরা নিয়ন্ত্রণ করি না। আমাদের তেমন লোকবলও নেই। এ বিষয়ে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সচেতন থাকতে হবে।

রাশেদুল ইসলাম রাজু/আরএডি/এমএস