দেশজুড়ে

ফরিদপুরে খাল ভরাট করে বাড়ি, বৃষ্টি হলেই ডুবে সড়ক

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা পৌরসভার ৭ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডে সীমানা ঘেঁষে বসতবাড়ি নির্মাণের অজুহাতে সরকারি খালে মাটি ভরাটের অভিযোগ উঠেছে। অবৈধভাবে খাল ভরাটের কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই পাশের সড়কে পানি জমে থাকে। ফলে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, খাল ভরাট থাকায় পৌরসভার বাকাইল মেইন রোডের বিশ্বাস পাড়া জামে মসজিদের পাশ দিয়ে গোপালপুর পাগলের আস্তানা পর্যন্ত পাকা রাস্তায় চলাচলে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই ওই সড়কে পানি জমে যায়। খাল ভরাট হয়ে যাওয়ায় পানি বের হতে না পেরে সড়কেই জমে থাকে। ফলে ওই সড়কে চলাচলকারীদের দুর্ভোগের শেষ নেই।

পথচারীরা জানান, এই সড়ক দিয়ে প্রতিদিন শতশত মানুষ চলাফেরা করে। কিছু পরিবার সরকারি খালের জায়গায় মাটি ভরাট করে বাড়ি তৈরি করেছে। এর ফলে সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কে হাঁটু পানি জমে। দীর্ঘদিন এভাবে পানি জমে থাকায় অচিরেই পাকা সড়ক নষ্ট হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

ওই সড়ক দিয়ে যাতায়াতকারী স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কে হাঁটু পানি জমে যায়। এতে আমাদের ভীষণ দুর্ভোগে পড়তে হয়।

কলেজ শিক্ষার্থী রাকিব শেখ, সায়েম খান ও আয়েশা আক্তার জানান, সামান্য বৃষ্টি-বাদল হলে যানবাহন এমনকি খালি পায়েও চলা দায়। জুতা-স্যান্ডেল খুলে হাতে নিয়ে চলাচল করতে হয়। এই দুর্ভোগ থেকে পরিত্রাণ চান তারা।

স্থানীয় বাসিন্দা পলাশ সাহা ও প্রসান্ত রায় অভিযোগ করে জাগো নিউজকে বলেন, স্থানীয় কয়েকজন প্রভাবশালী বাড়ি তৈরির অজুহাতে খাল ভরাট করেছেন। অবৈধভাবে সরকারি খাল ভরাট করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ সমস্যা নিরসনে দ্রুত সরকারি খালের জায়গা দখলমুক্ত করার দাবি জানান তিনি।

খালের জায়গা ভরাট করে বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে প্রদীপ পালের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রদীপ পাল জাগো নিউজকে বলেন, আসলে ওখানে একটি খাল ছিল। ওখানে ৬ শতাংশ জায়গার ওপর আমি একটি ভবন নির্মাণ করছি। ভবনের কাজ করতে গিয়ে কিছু মাটি খালের মধ্যে চলে গেছে এটা ঠিক। তবে আমি খাল ভরাট করিনি। নির্মাণসামগ্রী, বালু, খোয়া, মাটি পড়ে ভরাট হয়ে গেছে। আমার ভবনের কাজও প্রায় শেষের দিকে। কাজ শেষে আমি খালের মাটি কেটে পরিষ্কার করে দেবো।

এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা পৌরসভার মেয়র মো. সাইফুর রহমান সাইফার বলেন, এখানে একটি খাল ছিল এটা ঠিক। আমি মেয়রের দ্বায়িত্ব নেওয়ার আগে থেকেই খালটি বেদখলে রয়েছে। খালটি উদ্ধারে কাজ চলছে।

তিনি আরও বলেন, খালের পাশে ভবন নির্মাণের সময় মাটি ও নির্মাণসামগ্রী পড়ে খাল ভরাট হয়ে গেছে। এই অবস্থায় ওই এলাকায় ড্রেন নির্মাণে একাধিকবার প্রকল্প জমা দিয়েছি। কিন্তু প্রকল্প ব্যয় বেশি হওয়ায় তা পাস হয়নি।

এন কে বি নয়ন/কেএসআর/এমএস