খেলাধুলা

শ্রীলংকাকে হারিয়ে বিশ্বকাপে তৃতীয় বাংলাদেশ

জয়ের জন্য মাত্র ২১৪ রানের লক্ষ্য। হেসে-খেলেই জিততে যাচ্ছিল বাংলাদেশ; কিন্তু শেষ মুহুর্তে কয়েকটা উইকেট পরপর হারানোর ফলে নাটকীয়তা জমে উঠেছিল। তবুও লংকানরা পারলো না মেহেদি হাসান মিরাজদের জয় ঠেকাতে। উল্টো চারিথ আশালংকাদের ৩ উইকেটে হারিয়ে অনুর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে তৃতীয় স্থান অর্জণ করলো বাংলাদেশ। তিন বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় মেহেদি হাসান মিরাজরা।আজও বাংলাদেশের জয়ে অসাধারণ অবদান রাখলেন অধিনায়ক মিরাজ। একবারে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়া বলতে যেটা বোঝায়। বল হাতে যেমন, তেমনি ব্যাট হাতেও ছিলেন সেরা। ১০ ওভারে ২৮ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে খেললেন অনবদ্য ৫৩ রানের ইনিংস। নিশ্চিত বাংলাদেশেরই নয়, পুরো ম্যাচের এবং পুরো টুর্নামেন্টের সেরা পারফরমার মিরাজ।ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে সেমিফাইনালে পরাজয়টা যে নিচকই একটা দুর্ঘটনা ছিল, সেটা তৃতীয়স্থান নির্ধারনী ম্যাচে এসে প্রমাণ করলো বাংলাদেশের যুব টাইগাররা। টুর্নামেন্টে টপ ফেভারিট হয়েও ফাইনালে উঠতে না পারার ব্যর্থতাতে ভেঙে না পড়ে বাংলাদেশ অনুর্ধ্ব-১৯ ক্রিকেট দল প্রমাণ করলো, আসলেই তারা সেরা হওয়ার মত যোগ্য।ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলি স্টেডিয়ামে সকালে টস জিতে ব্যাট করতে নামা শ্রীলংকাকে ৪৮.৫ ওভারে অলআউট করে ২১৪ রানের মধ্যেই বেধে ফেলে বাংলাদেশের যুবারা। জবাবে ব্যাট করতে নেমে অবশ্য শুরুটা মোটেও ভালো হয়নি বাংলাদেশের। ওপেনিং জুটিতে পরিবর্তণ এনেও লাভ হলো না। জাকির হাসানকে ব্যাটিং অর্ডারে উন্নতি দিয়ে ওপেনিংয়ে পাঠানো হলেও প্রথম ওভারের তৃতীয় বলেই আসিথা ফার্নান্দোর বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান তিনি। দলীয় রান তখন মাত্র ১।এরপরই জয়রাজ শেখ এবং জাকের আলির ব্যাটে বাংলাদেশ জয়ের পথে এগিয়ে যেতে থাকে। তবে দলীয় ৪৯ রানের সময় আহত হয়ে মাঠ থেকে বের হয়ে যেতে হয় জাকের আলিকে। এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত (৪০) এবং মেহেদি হাসান মিরাজ (৫৩) বাংলাদেশের জয় সহজ করে দেন। ৩৬তম ওভারে মিরাজ দুর্ভাগ্যজনকভাবে রানআউট না হলে হয়তো যুবাদের জয় আরও দ্রুত হতে পারতো। দলীয় ১৫৫ রানে আউট হন নাজমুল হোসেন শান্ত। এরপর শফিউল হায়াত ২১, সাইফুদ্দিন ১৯ এবং মোসাব্বেক হোসেন ১১ রান করে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন। এর আগে ব্যাট করতে নেমে শ্রীলংকা অধিনায়ক চারিথা আশালঙ্কার ৭৬ রানের ইনিংসের ওপর ভর করে ২১৪ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় শ্রীলংকা। ওপেনার সালিন্দু পেরেরা ৩৪, ওয়ানিদু হাসারাঙ্গা ৩০, শাম্মু আসান ২৭ এবং কামিন্দু মেন্ডিস করেন ২৬ রান।বাংলাদেশের মেহেদি হাসান মিরাজ ৩ উইকেট ছাড়াও ২টি করে উইকেট নেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ও আবদুল হালিম। ১টি করে উইকেট নেন মেহেদী হাসান রানা এবং সালেহ আহমেদ শাওন।সংক্ষিপ্ত স্কোরশ্রীলংকা: ২১৪/১০, ৪৮.৫ ওভার (মেন্ডিস ২৬, পেরেরা ৩৪, ফার্নান্দো ৬, আশালংকা ৭৬, আশান ২৭, ভিসাদ ডি সিলভা ১০, ওয়ানিডু হাসারাঙ্গা ৩০, লাহিরু কুমারা ৩; মেহেদি হাসান মিরাজ ৩/২৮, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ২/৪৮, আবদুল হালিম ২/২৬, সালেহ আহমেদ শাওন ১/২৩, মেহেদি হাসান রানা ১/৩৩)। বাংলাদেশ: জয়রাজ শেখ ২৬, জাকির হাসান ০, জাকের আলি ৩১*, নাজমুল হোসেন শান্ত ৪০, মেহেদি হাসান মিরাজ ৫৩, শফিউল হায়াত ২১, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন ১৯, মোসাব্বেক হোসেন ১১, মেহেদি হাসান রানা ১*; শাম্মু আসান ২/৩৯, দামিথা সিলভা ১/৩০, আশিথা ফার্নান্দো ১/৪৯)। ফল: বাংলাদেশ ৩ উইকেটে জয়ী (৩ বল হাতে রেখে)ম্যান অব দ্য ম্যাচ: মেহেদি হাসান মিরাজ।

এবিএস