রমজান মাসকে সামনে রেখে ঘরে ঘরে চলছে নানান প্রস্তুতি। তবে আত্মশুদ্ধি ও সংযমের এই মাস হার্টের রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি কেবল ধর্মীয় অনুশীলন নয় - এটি একটি ক্লিনিক্যাল সিদ্ধান্তও।
দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা, পানি কম খাওয়া, ওষুধের সময়সূচি বদলানো - এসবই হার্টের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই রোজা রাখার আগে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞের সঙ্গে একটি বিস্তারিত আলোচনা জরুরি। জেনে নিন রোজার প্রস্তুতি হিসেবে হার্টের রোগীরা ডাক্তারকে কী কী জিজ্ঞেস করবেন -
১. আমার হৃদরোগের ধরন অনুযায়ী রোজা রাখা কতটা নিরাপদ?সব হৃদরোগ এক রকম নয়। কারও স্থিতিশীল এনজাইনা, কারও হার্ট অ্যাটাকের ইতিহাস, কারও হার্ট ফেইলিউর বা অনিয়মিত হার্টবিট (অ্যারিদমিয়া) রয়েছে। আপনার রোগের ধরন, সাম্প্রতিক অবস্থা এবং ঝুঁকি-প্রোফাইল বিবেচনায় রোজা নিরাপদ কি না - এটি আগে পরিষ্কার করে জেনে নিন।
২. আমার রক্তচাপ ও হার্ট ফাংশন কতটা নিয়ন্ত্রিত?রোজার আগে সর্বশেষ ইসিজি, ইকোকার্ডিওগ্রাম বা প্রয়োজনীয় পরীক্ষার রিপোর্ট পর্যালোচনা করুন। যদি রক্তচাপ অস্থিতিশীল থাকে বা হার্ট ফেইলিউর নিয়ন্ত্রণে না থাকে, তাহলে দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকা জটিলতা বাড়াতে পারে।
অনেক হৃদরোগীকে দিনে একাধিকবার ওষুধ নিতে হয়, যেমন - বিটা-ব্লকার, অ্যান্টিপ্লেটলেট, ডাইইউরেটিক বা রক্তচাপের ওষুধ। রোজার সময় এগুলো সেহরি ও ইফতারের মধ্যে কীভাবে ভাগ করবেন, কোনো ডোজ পরিবর্তন লাগবে কি না - এ বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা নিন। নিজে থেকে ওষুধ কমানো বা বাদ দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ।
৪. পানি ও লবণ গ্রহণের সীমা কী হবে?হার্ট ফেইলিউর রোগীদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত তরল ও লবণ গ্রহণ বিপজ্জনক হতে পারে। আবার দীর্ঘ সময় পানি না খেলে ডিহাইড্রেশন ও রক্তচাপ কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই আপনার জন্য কতটা তরল প্রয়োজন তা জেনে নিন।
৫. কোন লক্ষণ দেখলে রোজা ভাঙতে হবে?ডাক্তারের কাছে স্পষ্টভাবে জেনে নিন কোন লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে রোজা ভাঙা ও চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। কিছু লক্ষণ হতে পারে -
>> তীব্র বুকব্যথা
>> শ্বাসকষ্ট
>> অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দন
>> মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া
>> পা বা শরীর হঠাৎ ফুলে যাওয়া
৬. আমার কি মাঝামাঝি সময়ে ফলো-আপ দরকার?রোজা রাখার সিদ্ধান্ত নিলে মাঝামাঝি সময়ে রক্তচাপ, ওজন বা রক্তপরীক্ষা মনিটরিং প্রয়োজন হতে পারে। একটি সুস্পষ্ট ফলো-আপ পরিকল্পনা ঠিক করে নিন।
৭. আমি কি উচ্চ ঝুঁকির গ্রুপে পড়ি?যেসব অবস্থায় ঝুঁকি বেশি হতে পারে -
>> সাম্প্রতিক হার্ট অ্যাটাক
>> অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ
>> গুরুতর হার্ট ফেইলিউর
>> জটিল অ্যারিদমিয়া
>> ডায়াবেটিসসহ একাধিক জটিলতা
এসব ক্ষেত্রে চিকিৎসক রোজা স্থগিত রাখার পরামর্শ দিতে পারেন। কথা বলে তাই আগেই পরিষ্কারভাবে জেনে নিন।
রোজা রাখা ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত হলেও হৃদরোগের ক্ষেত্রে এটি চিকিৎসাবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়। শরীরের সীমাবদ্ধতাকে সম্মান করা দুর্বলতা নয় - এটি দায়িত্বশীলতা। ধর্মীয় বিধানে অসুস্থ ব্যক্তির জন্য ছাড় রয়েছে; তাই স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শই অগ্রাধিকার দিন।
সূত্র: আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন, ইউরোপিয়ান সোসাইটি অব কার্ডিওলজি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, মায়ো ক্লিনিক
এএমপি/এমএস