কুষ্টিয়ায় অনুষ্ঠিত হলো গ্রামবাংলার প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলা। কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের বরইচারা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে সোমবার (৩১ অক্টোবর) দিনব্যাপী এ খেলা অনুষ্ঠিত হয়।
বিল রবইচারা যুদ্ধ দিবস স্মরণে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের আয়োজনে এ লাঠিখেলা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিতান কুমার মন্ডল।
বিল রবইচারা যুদ্ধের অধিনায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওহাবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুদ্ধকালীন জেলা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহিদ হোসেন জাফর, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ সমিতির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এটিএম আবুল মনসুর মজনু, যদুবয়রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান প্রমুখ।
চারটি দলের অন্তত ৬৫ জন দুই লাঠি, চার লাঠি, শর্কি খেলা, তলোয়ার ও ছুরিসহ নানান খেলা প্রদর্শন করেন। লাঠি খেলায় একদল শিশুও তাদের নৈপুণ্য প্রদর্শন করে।
ষাটোধ্র্ব আবুল কাশেম বলেন, ‘এখন নিত্যনতুন খেলা আবিষ্কার হচ্ছে। লাঠিখেলা খুব একটা চোখে পড়ে না। ঢোলের বারি (শব্দ) শুনে চলে আইছি (এসেছি)। অনেক দিন পর খেলা দেখে শৈশবে ফিরে গিছি। খুব ভালো লাগছে।’
লাঠিয়াল সরদার শহিদ শেখ জাগো নিউজকে বলেন, ‘লাঠিখেলাসহ অন্যান্য গ্রামগঞ্জের খেলা দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। নতুন কেউ এসব খেলায় আসতে চায় না। ঐতিহ্য ধরে রাখতে আমার নাতিন (নাতনি) শারমিনকে লাঠিখেলা শেখাচ্ছি।’
যদুবয়রা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান বলেন, ‘যুদ্ধ দিবস উপলক্ষে ও ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী লাঠিখেলার আয়োজন করা হয়েছে। এতে চারটি দলের ৬৫ জন অংশ নেন। খেলা দেখে সবাই খুশি।’
১৯৭১ সালের ৩১ অক্টোবর কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বিল বরইচারা এলাকায় পাকবাহিনী, আলবদর ও রাজাকারদের বিরুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর সম্মুখযুদ্ধ হয়েছিল। এ যুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধা বদরুল ইসলাম বদরের নেতৃত্বে ১৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা অংশ নিয়েছিলেন।
আল-মামুন সাগর/এসআর/জেআইএম