টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন সাত বছর পর অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সোমবার (৭ নভেম্বর) জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে এ সম্মেলন। এরই মধ্যে পদ প্রত্যাশীদের ব্যানার-ফেস্টুনে ছেয়ে গেছে সড়ক-মহাসড়ক, অলি-গলি, গুরুত্বপূর্ণ মোড় ও সম্মেলন স্থানের আশপাশ।
পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়কে শোভা পাচ্ছে তোরণ। নেতাকর্মীদের উৎসাহ উদ্দীপনায় শহরের মুদি দোকান থেকে চা স্টল পর্যন্ত আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। কারা পাচ্ছেন জেলার নতুন নেতৃত্ব- সেই প্রশ্ন এখন সবার মুখে মুখে। কে হচ্ছেন ক্ষমতাসীন দলের জেলা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক। এরই মধ্যে সভাপতি পদে তিনজন ও সাধারণ সম্পাদক পদে চারজনের নাম শোনা যাচ্ছে। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদের জন্য অনেকেই উপজেলা, জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে তদবির করছেন।
টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান খান ফারুক, জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলমগীর খান মেনু ও আতাউর রহমান খানের নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম (ভিপি জোয়াহের), যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক খন্দকার আশরাফুজ্জামান স্মৃতি ও নাহার আহমদ, সাংগঠনিক সম্পাদক জামিলুর রহমান মিরনের নাম নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।
সম্মেলনকে ঘিরে জেলায় সাজ সাজ রব বিরাজ করছে। বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা মহাসড়ক, টাঙ্গাইল-ময়মনসিংহ আঞ্চলিক মহাসড়ক ও পৌর শহরের সব সড়কে শতাধিক তোরণ তৈরি করা হয়েছে। লাগানো হয়েছে বিভিন্ন স্থানে কেন্দ্রীয় নেতাদের স্বাগত জানিয়ে তোরণ ও বিলবোর্ড। সম্মেলনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থীদের সমর্থনে স্থানীয় নেতাদের পোষ্টার, ব্যানার, ফেস্টুন সম্মেলনস্থল পর্যন্ত লাগানো হয়েছে।
তবে জেলার ১২টি উপজেলা ও ইউনিয়ন-পৌরসভার সম্মেলন শেষ হলেও অধিকাংশ ইউনিটেরই পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন হয়নি। উপজেলা ও ইউনিয়ন-পৌরসভার সম্মেলনে গুরুত্বপূর্ণ তিন-চারটি পদের বিপরীতে নেতাদের নাম ঘোষণা দিয়ে সম্মেলন শেষ হয়েছে। এজন্য দলের জেলা সম্মেলনে কাউন্সিলরদের নামের তালিকা প্রকাশ হয়নি। অধিকাংশ উপজেলা সম্মেলনে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন না করায় স্থানীয় নেতাদের ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গেছে।
নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রথমে সম্মেলনে এক লাখ লোকের আগমন উপলক্ষে ব্যাপক আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। সে লক্ষ্যে সকাল ১০টা থেকে দিনব্যাপী সম্মেলনের দুই পর্ব সুচারুরূপে সম্পন্ন করতে সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়। এরমধ্যে মাথাপিছু ২৭০ টাকা হিসেবে এক লাখ নেতাকর্মীর খাবার ও তিন লাখ টাকা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের ব্যয় হিসেবে বাকি টাকা মঞ্চ ও আনুষঙ্গিক খরচ হিসেবে ধরা হয়। তবে কেন্দ্রীয় নেতারা সময় দিতে না পারায় সম্মেলন সংক্ষিপ্ত করে দুপুর ২টায় নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে ব্যয় কমবে বলেও জানান তারা।
এ বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক মো. রফিকুল ইসলাম খান জাগো নিউজকে বলেন, টাঙ্গাইল স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। এরই মধ্যে টাঙ্গাইলের ১০টি সাংগঠনিক ইউনিটের অধীনে সব ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা সম্মেলন করা হয়েছে। যদিও ২-১টা উপজেলার সম্মেলন এখনো করা সম্ভব হয়নি। এটা জেলা সম্মেলনে কোনো প্রভাব ফেলবে না।
তিনি আরও বলেন, কাউন্সিলের জন্য তালিকা প্রস্তুত আছে। ইলেকশন না সিলেকশনে কমিটি গঠন হবে তা নির্ধারণ করবে কেন্দ্রীয় কমিটি। এরই মধ্যে সম্মেলনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
আরিফ উর রহমান টগর/এসজে/জিকেএস