চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ড্রেজারডুবিতে নিহত আট শ্রমিকের পরিবারকে এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান খোকন কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড। কিন্তু দুর্ঘটনার ২০ দিন পরও সহায়তার অর্থ বুঝে পায়নি নিহতদের পরিবার।
জানা গেছে, গত ২৪ অক্টোবর উপজেলার সাহেরখালি ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বসুন্ধরা বেড়িবাঁধ এলাকায় সাগরের মাঝে বালু উত্তোলনের ড্রেজার রাখা ছিল। রাতে ঝড়ের কবলে সেখানে থাকা আট শ্রমিক নিখোঁজ হন। এরপর পরদিন দুপুর ২টা থেকে নিখোঁজ হওয়া শ্রমিকদের উদ্ধার অভিযানে নামে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও কোস্টগার্ড। প্রায় ৬৩ ঘণ্টা উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ২৭ অক্টোবর সাগরে ডুবে যাওয়া ড্রেজার থেকে একে একে আট শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত শ্রমিকরা হলেন- পটুয়াখালী সদর উপজেলার চর জৈনকাঠি গ্রামের আনিছ মোল্লার দুই ছেলে ছেলে মো. ইমাম হোসেন মোল্লা (২২) ও শাহীন মোল্লা (৩৮), আবদুল হক মোল্লার ছেলে মাহমুদ মোল্লা (২২), পূর্ব জৈনকাঠি গ্রামের মৃত আবদুর রহমান ফকিরের ছেলে মো. জাহিদুল বারি (২৫), মৃত সেকেন্দার হাওলাদারের ছেলে আল আমিন হাওলাদার (২২), ইউসুফ আলী হাওলাদারের ছেলে বশর হাওলাদার (৩৫), নুরু সরদারের ছেলে আলম সরদার (৩৮) ও রহমান খানের ছেলে তারেক মোল্লা (২০)।
নিহত ইমাম হোসেন মোল্লা ও শাহিন মোল্লার ভাই এনায়েত মোল্লা শনিবার (১২ নভেম্বর) বিকেলে বলেন, ড্রেজারডুবিতে আমার দুই ভাইকে একসঙ্গে হারিয়েছি। কয়েকদিন পানির নিচে ডুবে থাকায় মরদেহগুলো অক্ষত বাড়িতে নিতে পারিনি। পুরো শরীর বিকৃত হয়ে যায়।
তিনি বলেন, পরিবারের দুই উপার্জনকারীকে হারিয়ে আমরা এখন দিশেহারা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রতি পরিবারকে এক লাখ টাকা করে সহায়তার ঘোষণা দিলেও এখনো পর্যন্ত কোনো পরিবার সহায়তার অর্থ পায়নি। শুধু দেবে বলতেছে, কিন্তু কখন দেবে নির্দিষ্ট করে কিছু বলছে না।
এদিকে, দুর্ঘটনার পর একবারও ঘটনাস্থলে এসে হতাহতদের কোনো খবর নেননি ড্রেজার মালিক গাফফার।
বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে বেপজার ভূমি উন্নয়ন কাজে নিয়োজিত খোকন কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের প্রজেক্ট ম্যানেজার জুয়েল রানা বলেন, আমরা বেপজার মূল ঠিকাদার। বঙ্গবন্ধু শিল্পনগরে তাদের ভূমি উন্নয়নের কাজ করছিলাম। আমাদের কোম্পানি সাব-ঠিকাদার হিসেবে ইকবাল হাজি ও মোহাম্মদ গাফফারকে বালু উত্তোলনের কাজ দেয়। গত কয়েকমাস ধরে তারা আমাদের বালু সরবরাহ করে আসছিল।
তিনি বলেন, ২৪ অক্টোবর সাগরে ড্রেজারডুবে আট শ্রমিক নিখোঁজ হয়। শ্রমিকরা নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে উদ্ধার অভিযান থেকে শুরু করে অ্যাম্বুলেন্স, ফ্রিজিং গাড়ি, মরদেহ বাড়ি পাঠানো সব খরচ আমাদের কোম্পানি বহন করেছে। কোম্পানি নিহত শ্রমিকদের প্রতি পরিবারকে এক লাখ টাকা করে অনুদান দেবে। কিন্তু কোম্পানির বিভিন্ন ঝামেলার কারণে এখনো সহায়তার টাকা দেওয়া যায়নি। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে অনুদানের টাকা মিরসরাইয়ের ইউএনওর মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়া হবে।
মিরসরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মিনহাজুর রহমান বলেন, ঠিকদারি প্রতিষ্ঠান খোকন কনস্ট্রাকশন প্রতি পরিবারকে এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে। সহায়তার অর্থ দিতে দেরি হওয়ায় আমি গত বুধবার তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমাকে তারা জানিয়েছে, এই সপ্তাহের মধ্যে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে নিহতদের পরিবারগুলোর মাঝে সহায়তার অর্থ তুলে দেবে।
এমআরআর/এমএস