দেশজুড়ে

স্কুলের পাশে জলাবদ্ধতা, নারায়ণগঞ্জে ৪ কারখানাকে জরিমানা

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা পাইলট স্কুল সংলগ্ন এলাকার পাশ দিয়ে ড্রেনের মাধ্যমে তরল বর্জ্য নির্গমন করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টির অভিযোগে চার প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার (১৪ নভেম্বর) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইলোরা ইয়াসমিনের নেতৃত্বে পরিবেশ অধিদপ্তরের একটি টিম ওই অভিযান চালায়।

অর্থদণ্ড করা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে দিপ্তী ডাইং অ্যান্ড ফিনিশিং মিলস লিমিটেডকে পাঁচ হাজার টাকা, পপুলার ডাইংকে ১০ হাজার, এএসবি নিটিং অ্যান্ড ফিনিশিংকে ১০ হাজার ও মুন নিট কম্পোজিটকে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। সেইসঙ্গে তাৎক্ষণিক কারখানা সৃষ্ট তরল বর্জ্যের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ইলোরা ইয়াসমিন জাগো নিউজকে বলেন, পরিবেশ অধিদপ্তরের কাছে ফতুল্লা পাইলট স্কুলের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ ছিল কয়েকটি কারখানা স্কুলের আশপাশ এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছে। তারা মানববন্ধনও করেছিল। সেই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই আমরা অভিযান চালিয়ে সত্যতা খুঁজে পাই এবং তাদের জরিমানার আওতায় আনা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মূলত দাপা, ইদ্রাকপুর, ফতুল্লা এলাকার জলাবদ্ধতা দূরীকরণের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় এ অভিযান চালানো হয়েছে।

এর আগে জলাবদ্ধতা নিরসনের দাবিতে ১ নভেম্বর বিক্ষোভ মিছিল করে ফতুল্লার দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, ম্যানেজিং কমিটির নেতারা ও এলাকাবাসী। ফতুল্লার পাইলট স্কুলের সামনে থেকে মিছিল নিয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে সদর উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় ঘেরাও করে শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।

ফতুল্লা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও সেহারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রবেশ পথে বছরজুড়েই ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত হাঁটু পানি জমে থাকছে। গত কয়েক বছর ধরে বর্ষা মৌসুম থেকে শুরু করে সারা বছরজুড়েই পানিতে ডুবে থাকে স্কুল দুইটির প্রবেশ পথ। জলাবদ্ধতার পাশাপাশি বিভিন্ন শিল্প কারখানা বিশেষ করে ডাইংয়ের দূষিত তরল বর্জ্যের কারণে অ্যাসিডযুক্ত কালো পানিতে দুর্বিষহ হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীসহ ওই এলাকার জনসাধারণের জীবন।

মোবাশ্বির শ্রাবণ/এমআরআর/এমএস