ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় চাঁদাবাজির অভিযোগে মো. শিমুল নামের বরখাস্ত হওয়া এক পুলিশ সদস্যকে মারধর করেছেন স্থানীয় জনতা। তবে পুলিশ বলছে, স্থানীয়দের সঙ্গে তার ভুল বোঝাবুঝি হয়েছে।
সোমবার (১৪ নভেম্বর) দুপুরে ভাঙ্গা হাইওয়ে ইন্টারশেকসনের ফ্লাইওভার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শিমুলের বাড়ি নরসিংদী জেলার পলাশ থানায়। তার শ্বশুরবাড়ি ভাঙ্গার হামিরদী গ্রামে। তিনি ময়মনসিংহ বিভাগের রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের (আরআরএফ) সদস্য। তবে সাময়িক বরখাস্ত আছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী অটো-গাড়ির ম্যানেজার সুরুজ মোল্লা জানান, হঠাৎ চেঁচামেচির শব্দ শুনে ফ্লাইওভারের ওপরে এগিয়ে গিয়ে দেখি ২০-৩০ জন লোক একজনকে মারধর করছেন। পরবর্তীতে শিমুল নিজেকে পুলিশের কনস্টেবল পরিচয় দেন। পরে সেখান থেকে শিমুলকে ভাঙ্গা ট্রাফিক পুলিশ বক্সে নেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা অমিত মালো অভিযোগ করে বলেন, ‘সকালে গোলচত্বরে ঘোরা-ফেরা করছিলাম, আমার বাড়িঘর কোথায় জানতে চান শিমুল। পরিচয় দিলে তিনি আমার কাছে ১ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় শিমুল আমাকে শুধু-শুধু চড়-থাপ্পড় মারেন এবং থানায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলেন। তার পা ধরে থানায় নিয়েন না বলে বারবার অনুরোধ করি। আমার চিৎকার শুনে একপর্যায়ে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। তারা শিমুলকে মারধর করেন।’
ওই এলাকার ভ্যানচালক আলামিন ও মজিবর শেখ বলেন, ‘ওই দিক দিয়ে ভ্যান নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশ পরিচয় দিয়ে মহাসড়কে চলাচলরত কয়েকটি অটো-গাড়ি থেকে টাকা আদায় করেন শিমুল।’
মাছ ব্যবসায়ী হৃদয় বলেন, ‘সাত মাস আগে পুলিশের পোশাক পরিহিত অবস্থায় শিমুল ও তার আরও এক সহযোগী নওয়াপাড়া স্ট্যান্ড থেকে আমার একটি মোটরসাইকেল ও মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়।’
এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মারুফ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, শিমুল ময়মনসিংহ বিভাগের রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্সের (আরআরএফ) সদস্য। তবে বর্তমানে তিনি সাময়িক বরখাস্ত আছেন।
এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়ারুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, স্থানীয়দের সঙ্গে বরখাস্ত পুলিশ সদস্য শিমুলের ভুল বুঝাবুঝি হয়। পরবর্তীতে কোনো পক্ষের লিখিত অভিযোগ না থাকায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সোমবারই তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভাঙ্গা সার্কেল) হেলাল উদ্দিন ভুঁইয়া জাগো নিউজকে বলেন, শিমুলের শশুরবাড়ি ভাঙ্গায়। তিনি ঢাকা যাওয়ার জন্য ভাঙ্গা ইন্টারসেকশনে গাড়ির অপেক্ষায় ছিলেন। তখন স্থানীয় অমিত মালো ও তার বান্ধবীকে মহাসড়কের পাশে প্রকাশ্যে অশালীন অবস্থায় দেখতে পান শিমুল। পরে এর প্রতিবাদ করলে অমিত মালোর কয়েক বন্ধুসহ স্থানীয়দের রোষানলে পড়েন শিমুল। এ সময় স্থানীয়রা তাকে মারধর করেন। খবর পেয়ে শিমুলকে উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। সোমবার রাত ৯ টার দিকে শিমুলকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এন কে বি নয়ন/এসজে/এমএস