দেশজুড়ে

দিনাজপুরে ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে ভূমি কর্মকর্তা রেজাউল মতিনের বিরুদ্ধে খাজনার নামে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

কৃষি জমি ও বাড়ির খাজনার নির্দিষ্ট ফি না নিয়ে, বিভিন্ন টালবাহানা করে অতিরিক্ত খাজনা আদায় করার অভিযোগ এনেছেন ঈশ্বরপুর মৌজার আবুল কাশেম নামে এক কৃষক। তিনি উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বরাবর একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আবুল কাশেম ২৮ অক্টোবর ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা রেজাউল মতিনের কাছে ১৯ বিঘা জমির খাজনা দিতে যান। এসময় ভূমি কর্মকর্তা আবুল কাশেমের কাছে এক লাখ ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। তার পরের দিন দাম কষাকষি করে ১৯ বিঘা জমির জন্য ২০ হাজার টাকা চূড়ান্ত করলে খাজনা নিতে রাজি হন রেজাউল। তবে ২০ হাজার টাকা নিয়ে তিনি ১৯ বিঘার জমির জন্য খাজনার রশিদ কাটেন মাত্র তিন হাজার ৫৬৩ টাকার। বাকি ১৬ হাজার ৪৩৭ টাকা হাতিয়ে নেন এই ভূমি কর্মকর্তা।

ঈশ্বরপুর মৌজার আরেক জমির মালিক আব্দুল সামাদ জানান, তার ৯ বিঘা জমির খাজনা দিতে গেলে ভূমি কর্মকর্তা রেজাউল ৯০ হাজার টাকা দাবি করেন। এমনকি ৯০ হাজার টাকা দিতে না পারলে জমির খাজনার চেক কাটবেন না বলে আব্দুল কাদেরকে জানিয়ে দেন তিনি।

৮ নম্বর মাহমুদ পুর ইউনিয়নের ইউপি সদস্য গোলাম রসুল বলেন, ভূমি কর্মকর্তা রেজাউল মতিন তার সঙ্গেও দুর্ব্যবহার করেছেন। একজন সরকারি ভূমি কর্মকর্তার এমন আচরণ খুবই দুষ্কর। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে আমার দাবি রেজাউল মতিনের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হোক ।

এ বিষয়ে ৮ নম্বর মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাসান সালাউদ্দিন মাসুম বলেন, আমি লোকমুখে শুনেছি তার অনিয়মের কথা। তবে এ বিষয়ে আমি নিজে মুঠোফোনে তার সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি আমার সঙ্গেও খারাপ ব্যবহার করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা রেজাউল মতিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, স্বাক্ষরিত ভূমি উন্নয়ন কর রশিদে জমির নির্দিষ্ট পরিমাপ অনুযায়ী খাজনার চেক কাটানো হয়। রশিদের বাহিরে কোনো লেনদেন করিনি আমি। আমার বিরুদ্ধে অতিরিক্ত খাজনা আদায়ের অভিযোগ মিথ্যা।

এ ব্যাপারে নবাবগঞ্জ উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) কামরুজ্জামান সরকার বলেন, মাহমুদপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভূমি কর্মকর্তা রেজাউল মতিনের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ পাওয়ার পরে অভিযোগকারী এবং ভূমি কর্মকর্তা রেজাউল মতিনকে অফিসে ডেকেছিলাম কিন্তু অভিযোগকারী অফিসে না আসার কারণে বিষয়টি সমাধান করা যায়নি। তবে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো. মাহাবুর রহমান/জেএস/এমএস