দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) পাঁচ শিক্ষককে কুপিয়ে আহত করেছে মো. তাজুল ইসলাম নামের এক অফিস সহায়ক। বুধবার (১৬ নভেম্বর) সকালে এ ঘটনা ঘটে। পরে মো. তাজুল ইসলামকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে।
আহত শিক্ষকরা হলেন- সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক ড. রোকনুজ্জামান রনি, প্রভাষক নির্মল চন্দ্র রায়, হারুন-উর রশিদ, সহযোগী অধ্যাপক বেলাল হোসেন ও প্রভাষক মাহাবুবুর রহমান। তারা সবাই দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক ড. রোকনুজ্জামান রনিসহ আহত শিক্ষকরা অফিসে আসার পর অফিস সহায়ক মো. তাজুল ইসলাম অফিসে আসেন। এ সময় দেরিতে আসার কারণ জানতে চান অধ্যাপক ড. রোকনুজ্জামান রনি। একপর্যায়ে তিনি তাজুল ইসলামকে দেরি করে না আসার জন্য সতর্ক করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাজুল ইসলাম ধারালো অস্ত্র-কাঁচ দিয়ে ড. রোকনুজ্জামান রনিকে এলোপাতাড়ি আঘাত করেন। এ সময় অন্য শিক্ষকরা এগিয়ে আসলে তাদেরও তিনি আঘাত করেন। এতে তারা গুরুতর জখম হন।
ঘটনাটি ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্ররা উপাচার্যের ভবনের সামনে অবস্থান নেয়। এ সময় তারা অফিস সহায়ক মো. তাজুল ইসলামের শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে ক্যাম্পাসের আবাসিক কোয়াটার থেকে মো. তাজুল ইসলামকে আটক করে থানায় নিতে চাইলে শিক্ষার্থীরা বাধা দেন। পরে তাকে দুপুরে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে পুলিশের হাতে তুলে দিলে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
কেন শিক্ষকদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে আহত করলেন জানতে চাইলে অফিস সহায়ক মো. তাজুল ইসলাম কোনো কথা বলেননি।
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে হাবিপ্রবির প্রক্টর অধ্যাপক ড. মামুনুর রশিদ বলেন, পাঁচ শিক্ষককে অফিস সহায়ক মো. তাজুল ইসলাম ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে আহত করেছেন। তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, থানায় মামলা ও তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।
দিনাজপুরের কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তানভিরুল ইসলাম জানান, মো. তাজুল ইসলামকে আটক করা হয়েছে। মামলার পর তাকে আদালতে তোলা হবে।
এমদাদুল হক মিলন/আরএইচ/এএসএম