দেশজুড়ে

বপনের সময় শেষের দিকে, এখনো প্রণোদনার বীজ পাননি দিনাজপুরের কৃষকরা

রবি মৌসুমে বপনের সময় শেষ হতে চললেও এখনো প্রণোদনার সরিষা বীজ ও সার পাননি দিনাজপুরের কৃষকরা। তবে সব উপজেলায় প্রণোদনার বীজ-সার পৌঁছে গেছে বলে জানিয়েছেন দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নুরুজ্জামান।

সারা দেশে রবি মৌসুমে গম, ভুট্টা, সরিষা, সূর্যমুখী, চিনাবাদাম, সয়াবিন, শীতকালীন পেঁয়াজ, মুগ, মসুর ও খেসারি আবাদ এবং উৎপাদন বৃদ্ধিতে ১৬ লাখ ৭১ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তি কৃষকের জন্য ১৩৭ কোটি টাকার প্রণোদনা দিয়েছে সরকার। এরমধ্যে দিনাজপুরে গম, ভুট্টা, সূর্যমুখী, চিনাবাদাম, সয়াবিন, শীতকালীন পেঁয়াজ, মুগ, মসুর ও খেসারি ডালের বীজের পাশাপাশি সরিষা চাষ করেন এমন ৬৫ হাজার ২২০ জন কৃষক এক কেজি করে সরিষা বীজ, ১০ কেজি ড্যাপ এবং ১০ কেজি করে মিউরেট অব পটাশ (এমওপি) সার পাবেন।

বিরল উপজেলার কৃষক ওয়াহেদুল আলম বলেন, সরিষা চাষের জন্য তিনি জমি প্রস্তুত করে রেখেছেন। কিন্তু সার-বীজ না পাওয়ায় বীজ বপন করতে পারছেন না। জমির রস শুকিয়ে যাচ্ছে। জমি একটু রসালো না থাকলে সরিষার ফলন ভালো হয় না। যত আগে সরিষার বীজ বপন করা যায় ফলন তত ভালো হয়।

কাহারোল উপজেলার কৃষক আব্দুল্লাহ বলেন, সরকারিভাবে যে সরিষার বীজ দেওয়া হয় তা বিঘায় এক কেজি হলেই হয়ে যায়। বাজার থেকে কেনা বীজ ভালো নয়। পরিমাণে দুই কেজি লাগে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তিনি সরকারি বীজ-সার পাননি।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. নুরুজ্জামান জানান, মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত বাজেট কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা খাত থেকে এ প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে। ২৬ অক্টোবর এ-সংক্রান্ত সরকারি মঞ্জুরি আদেশ জারি হয়েছে।

তিনি জানান, অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ থেকে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহের মধ্যে সরিষার বীজ বপন করতে পারলে ফলন ভালো পাওয়া যায়। তবে এখনো সব উপজেলার কৃষকরা সরিষা বীজ পাননি বলে জানা গেছে।

উপ-পরিচালক নুরুজ্জামান জানান, দিনাজপুরে গতবার ১৬ হাজার হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছিল। এবার ২০ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু কৃষকদের মধ্যে যে আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে তাতে দিনাজপুরে এবার সরিষা চাষ ২৫ হাজার হেক্টর ছাড়িয়ে যাবে।

এমদাদুল হক মিলন/এসআর/এএসএম