যশোরের শার্শা উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে দুপক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় দুজনকে যশোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) দুপুরে উপজেলার ডিহি ইউনিয়নের কৃষ্ণপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। খবর পেয়ে গোড়পাড়া পুলিশ ক্যাম্পের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।
স্থানীয়রা জানান, কৃষ্ণপুর গ্রামের হক পাটোয়ারির কাছ থেকে প্রথমে রেহমানিক কৃষ্ণপুর মৌজায় ৮ শতাংশ জমি কেনেন। সেই জমিতে তিনি চাষাবাদ করে আসছিলেন। পরে একই জমি হক পাটোয়ারির ছেলে আব্দুস সামাদ পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত দাবি করে একই গ্রামের রফিকুল ইসলামের কাছে বিক্রি করেন। উভয়পক্ষ জমি নিজেদের দাবি করেন। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।
পরে ক্রয়সূত্রে প্রথম পক্ষ রেহমানিক জমি নিজের দাবি করে যশোর আদালতে একটি মামলা করেন। মামলাটি আদালতে এখনো চলমান রয়েছে। এরমধ্যে রেহমানিকের চাষের ওই জমির পাকা আমন ধান শুক্রবার দুপুরের দিকে রফিকুল ইসলাম তার লোকজন নিয়ে জোরপূর্বক গাড়িতে করে নিয়ে যেতে চাইলে রেহমানিকসহ তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দেন। দুপক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা গড়ায় সংঘর্ষে।
এতে রফিকুলের লোকজন নুরুল হুদা (৩০), রনি (২২) ও রেহমানিককে (৫০) এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। সংঘর্ষে দুপক্ষের অন্তত ছয়জন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় নুরুল হুদা ও রনিকে যশোর ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত অন্যরা হলেন রেহমানিক (৫০), রফিকুল ইসলাম (৬৫), তার স্ত্রী সফুরা খাতুন (৬০) ও ছেলে বাবু (২৭)।
গোড়পাড়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই ফজলুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জাগো নিউজকে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। আহতরা হাসপাতালে ভর্তি আছে। অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মো. জামাল হোসেন/এমকেআর