কৃষি ও প্রকৃতি

ছাদ বাগানে মিটছে পরিবারের বাড়তি চাহিদা

দোতলা বাসার ছাদে মঞ্জুরুল ইসলাম মাসুদ গড়ে তুলেছেন একখণ্ড বাগান। বিভিন্ন রকমের ফল, সবজি ও ফুলের চারা রোপণ করে তৈরি করেছেন দৃষ্টিনন্দন এ বাগান। ভূমি থেকে ২০ ফিট উপরে ইট-পাথরের মেঝেতে তৈরি ছাদ বাগান নজর কেড়েছে। বাগানে উৎপাদিত ফল-মূল দিয়ে পরিবারের বাড়তি চাহিদা মিটিয়েও বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজনদের মাঝে বিতরণ করছেন। এতে আনন্দের পাশাপাশি বাগান পরিচর্যার মাধ্যমে অবসর সময়কে কাজে লাগাচ্ছেন তিনি।

Advertisement

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ শিল্পাঞ্চল উপজেলায় শিল্পায়নের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে জনসংখ্যা, বর্ধিত হয়েছে আবাসস্থল। শিল্প-কারখানা আর আবাসনের চাপে কমছে আবাদি ও ফসলি জমি। এতে আস্তে আস্তে ছোট হয়ে আসেছে কৃষি জমির পরিধি। ইট-পাথর আর কংক্রিটের রাজত্বে ফসলি জমির পরিমাণ কমে যাওয়ায় ফল-মূল চাষাবাদ ও গাছ রোপণের জায়গায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। তাই শখ করে অনেকে ফল-ফুল কিংবা সবজি চাষে পরিবারের পুষ্টি চাহিদা পূরণের জন্য ছাদ বাগান করছেন। উপজেলায় ছাদ বাগান এখন অনেক জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।

মঞ্জুরুল ইসলাম মাসুদ রূপগঞ্জের তারাব পৌরসভার কর্ণগোপ এলাকার বাসিন্দা। পেশায় তিনি ব্যবসায়ী। তিন বছর আগে কাজের পাশাপাশি অবসর সময়ে বাসার ছাদে শখ করে গড়ে তুলেছেন বাগান। বাগানে সবজি, ফুল, ফলদ ও ওষুধিসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ আছে।

তার বাগানে কমলা, মাল্টা, ডালিম, হিমসাগর, হাঁড়িভাঙা, লেবু, পেয়ারা, আমড়া, ড্রাগন, শরিফা, জাম্বুরা, আপেল কুল, তীন ফলসহ ১৫ প্রকার ফলের গাছ আছে। এ ছাড়া করলা, কাঁচামরিচ, ক্যাপসিকাম, পুদিনা পাতা, ফুলকপি, লাউসহ বিভিন্ন প্রকার ফুলের গাছও আছে। বাগান পরিচর্যার কাজে তাকে সহযোগিতা করেন স্ত্রী ও ৩ ছেলে।

Advertisement

বর্তমানে বাগানে বিভিন্ন প্রকার ফল-মূল ও সবজির সমারোহ আছে। এতে নিজের চাষ করা কীটনাশক ও ফরমালিনমুক্ত ফল পাচ্ছেন। অন্যদিকে সারাবছরই বাগানে ফলের সমারোহ থাকছে। মঞ্জুরুল ইসলাম মাসুদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘কৃষির প্রতি ভালোবাসা থেকে বাগান করেছি। পরিবারের বাড়তি পুষ্টি চাহিদাও মিটছে।’

প্রতিবেশী মাহফিজুর রহমান বলেন, ‘আমার বাসার পাশেই এত সুন্দর ছাদ বাগান দেখে উৎসাহিত হয়ে এক বছর যাবত আমার ছাদেও বাগান তৈরিতে হাত দিয়েছি।’

এসইউ/জিকেএস

Advertisement