আন্তর্জাতিক

ইংরেজি শিখতে গিয়ে ইন্দোনেশীয় তরুণীর সঙ্গে প্রেম, অবশেষে বিয়ে

প্রেমের টানে ঘুঁচে গেলো দুই দেশের ব্যবধান! আর তাতে ঘটকালি করলো ইংরেজি শিক্ষা! অনলাইনে ইংরেজি শিখতে গিয়ে ইন্দোনেশীয় তরুণীর সঙ্গে আলাপ হয়েছিল ভারতের এক যুবকের। ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। এরপর নানা বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে পরিচয়ের সাত বছর পর অবশেষে বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তারা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর খবরে জানা যায়, পাত্র সানোয়ার আলীর বাড়ি ভারতের উত্তর প্রদেশে আর পাত্রী মিফতাহুল জান্নাহর বাড়ি ইন্দোনেশিয়ার মেদানে। এতদিন ধরে সোশ্যাল মিডিয়াই ছিল তাদের প্রেমের স্টেশন।

দুজনের পরিচয় হয় ২০১৫ সালে অনলাইনে ইংরেজি শিখতে গিয়ে। শুরুতে ফেসবুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠান মিফতাহুল। সানোয়ার তা গ্রহণ করেন। ধীরে ধীরে গাঢ় হয় পরিচয়।

এর মধ্যে ২০১৭ সালে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলে আঘাত হানে প্রলয়ংকরী এক ঝড়। তাতে সানোয়ার ও তার পরিবারের সুরক্ষা নিয়ে ভীষণ চিন্তিত হয়ে পড়েন মিফতাহুল। ওই সময়ই দুজনে বুঝতে পারেন, সম্পর্ক বাঁক বদলে ভালোবাসায় রূপ নিয়েছে।

কিন্তু মাঝখানে ছিল দূরত্বের বিরাট ব্যবধান। তার ওপর সমাজ-সংস্কৃতির পার্থক্য। আদৌ কি এই প্রেম পরিণতি পাবে?

মনের ভেতর জটিল প্রশ্ন ছিল বলেই হয়তো সানোয়ার বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার ছয় মাস পরে হ্যাঁ বলেন মিফতাহুল জান্নাহ। ২০১৮ সালে ইন্দোনেশিয়ায় যান প্রেমিক সানোয়ার। প্রথমবার মুখোমুখি দেখা হয় প্রেমিকা তথা হবু স্ত্রীর সঙ্গে।

মিফতাহুলের বাবা নেই। মা ও তিন বোনের সংসার। স্নাতক শেষে একটি স্কুলে শিক্ষকতা শুরু করেছিলেন ইন্দোনেশীয় এ তরুণী।

ইন্দোনেশিয়ায় গিয়ে বিয়ের জন্য প্রেমিকার পরিবারকে রাজি করিয়ে স্বদেশে ফেরেন সানোয়ার। মনের কথা জানান নিজের পরিবারকেও। ২০১৯ সালে দ্বিতীয়বার ইন্দোনেশিয়া যান সানোয়ার। এরপর শিগগির বিয়ের পিঁড়িতে বসার ইচ্ছা ছিল তাদের। কিন্তু সব পরিকল্পনায় পানি ঢেলে দেয় করোনাভাইরাস মহামারি তথা লকডাউন।

অবশেষে গত ২৯ অক্টোবর ইন্দোনেশিয়ায় দু’হাত এক হয়েছে সানোয়ার-মিফতাহুলের। গত সপ্তাহে ভারতে বড় করে অনুষ্ঠানও করেছে বরপক্ষ।

সূত্র: টাইমস নাউ, সংবাদ প্রতিদিনকেএএ/