যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইউক্রেনে সবচেয়ে বড় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালালো রাশিয়া। শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) প্রায় একই সময়ে ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে ৭০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেন রুশ সেনারা।
এদিকে, এ হামলায় পুরোপুরি বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ইউক্রেনের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর খারকিভ। এমনকি সারাদেশে জরুরি ব্লাকআউট ঘোষণা করতে বাধ্য হয় জেলেনস্কি প্রশাসন।
কিয়েভ জানায়, মধ্যাঞ্চলীয় শহর ক্রেভই রিয়াতের একটি অ্যাপার্টমেন্টে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে তিনজন ও দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর খেরসনে রুশ গোলাবর্ষণে একজন নিহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের সেনাবাহিনী প্রধান ভ্যালেরি জালুঝনি দাবি করেছেন, রাশিয়ার ছোড়া ৭৬টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ৬০টি গুলি করে ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে তার সেনারা।
তবে দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী হারমান হলিউশচেঙ্কো বলেন, আমাদের বিভিন্ন অঞ্চলের অন্তত নয়টি বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
খারকিভে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিদ্যুৎ, পানি ও উষ্ণতা সরবরাহ ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়ে। শুক্রবার রাতে আঞ্চলিক গভর্নর ওলে সিনেগুবভকে উদ্ধৃত করে ইউক্রেইনীয় একটি বার্তা সংস্থা তাদের প্রতিবেদনে বলে, নগরীর ৫৫ শতাংশ বিদ্যুৎব্যবস্থা ও আশেপাশের অঞ্চলের ৮৫ শতাংশ ফের সচল হয়েছে।
নগরীর জরুরি খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রের রাধুনি লুদমিলা কোভিলকো বলেন, জীবন থেমে থাকবে না। আমরা বিস্ফোরণের শব্দ শুনেছি, বিদ্যুৎ চলে গেছে। কিন্তু মানুষকে খাওয়াতে তো হবে। উপায় না পেয়ে আমরা লাকড়ির চুলায় রান্না করছি।
শুক্রবার রাতে কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো বলেন, নগরীর বাসিন্দাদের মধ্যে মাত্র এক তৃতীয়াংশের ঘর উষ্ণ রাখার ব্যবস্থা ও পানি আছে। ৪০ শতাংশে মানুষের বাড়িতে বিদ্যুৎ আছে। নগর পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ মেট্রো সিস্টেম বন্ধ রাখতে বাধ্য হচ্ছি।
এদিকে, শুক্রবার রাতে একটি ভিডিও বার্তায় ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমিরি জেলেনস্কি বলেন, আরও কয়েকবার ব্যাপক হামলা চালানোর মতো সক্ষমতা আছে রাশিয়ার। মিত্রদের উচিৎ কিয়েভকে আরও বেশি ও উন্নত আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সরঞ্জাম সরবরাহ করা।
তিনি আরও বলেন, রাশিয়ায় পাল্টা হামলা চালানো মতো পর্যাপ্ত শক্তি রাখে ইউক্রেন। তবে জেলেনস্কি ইউক্রেইনীয় নাগরিক আরেকটু ধৈর্য ধরার আহ্বান জানান। পাশাপাশি, আঞ্চলিক সব কর্তৃপক্ষকে জরুরি বিদ্যুৎ সরবরাহে আরও তৎপর হতে বলেন।
বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বরে) কিয়েভের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, আগামী বছরের প্রথমদিকে সর্বাত্মক হামলা চালানোর নতুন পরিকল্পনা করেছে মস্কো। এমনকি, কিয়েভে হামলা চালানো জন্য নতুন করে দুই লাখ সেনা প্রস্তুত করছে বলে দাবি করেন ইউক্রেনের সেনাপ্রধান।
সাম্প্রতিক সময়ে ইউক্রেনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা বাড়িয়েছে রাশিয়া। ৮ অক্টোবর ক্রিমিয়া উপদ্বীপের সঙ্গে রাশিয়াকে সংযুক্তকারী কার্চ সেতুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার পর থেকে ইউক্রেনের জ্বালানি সংযোগ ও অবকাঠামোগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করে রাশিয়া।
এর মধ্যে গত মাসে রাশিয়া অধিকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপের বৃহত্তম বন্দরনগরী সেভাস্তোপলের কাছে কৃষ্ণ সাগরে রুশ নৌবহরে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। এরপর কয়েক দফায় ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় রুশ সেনারা।
ইউক্রেনের সামরিক কর্মকর্তাদের দাবি, সম্মুখ যুদ্ধে সুবিধা করে উঠতে না পেরে রুশ সেনারা অক্টোবর মাস থেকে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা শুরু করেছে।
অধিকাংশ জ্বালানি সংযোগ ও অবকাঠামোতে রাশিয়ার ধারাবাহিক হামলার ফলে, এরই মধ্যে ইউক্রেনে চরম বিদ্যুৎ সংকট ও দীর্ঘ সময়ের লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। লাখ লাখ ইউক্রেনীয় নাগরিককে তীব্র শীত ও অন্ধকারের সঙ্গে লড়াই করতে হচ্ছে।
সূত্র : এনডিটিভি
এসএএইচ