পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের প্রত্যন্ত গ্রাম মানিককৌড়। পশ্চাৎপদ এ গ্রামে একসময় কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছিল না। এ গ্রামের মরহুম সাবান আলী খন্দকার ও জোবেদা খাতুন দম্পতির সন্তানরা প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্মাণের জন্য এক বিঘা জমি দান করেন। এ জমিতে ২০১২ সালে নির্মাণ করা হয় জোবেদা খাতুন সাবান আলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
এ বিদ্যালয়ের পাশেই ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীদের বসবাস। এ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর হতদরিদ্র ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠীর শিশুদের পড়াশোনার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠান ছিল মঙ্গলবার (২০ ডিসেম্বর)। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পি এম ইমরুল কায়েসকে। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) টিএম রাহসিন কবির।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতির আত্মীয়তার সুবাদে অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয় ঈশ্বরদীর সন্তান সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সিরাজুল ইসলাম মামুনকে। তিনি ছুটিতে নিজ বাড়িতে থাকায় শিশু শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সময় কাটাতে এ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। প্রত্যন্ত গ্রামের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অনুষ্ঠানে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ইউএনও ও এসিল্যান্ডের উপস্থিতি দেখে শিক্ষার্থীরা খুবই উচ্ছ্বসিত হয়।
এ অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন দাশুড়িয়া ইউপি চেয়ারম্যান বকুল সরদার, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান, প্রেস ক্লাবের সভাপতি মোস্তাক আহমেদ কিরণ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাতেনসহ এলাকার বিশিষ্টজনরা।
বিদ্যালয়ের জমিদাতা ও পরিচালনা কমিটির সভাপতি কে এম আবুল বাসার জাগো নিউজকে বলেন, “কয়েকদিন আগে বিদ্যালয়ে এসে পঞ্চম শ্রেণির কক্ষে যাই। সেখানে কৌতূহলবশত শিক্ষার্থীদের জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ‘তোমরা বিদায় অনুষ্ঠানে কী কী খেতে চাও?’ তারা বলেছিল, ‘আমরা বিরানি খেতে চাই’। তাদের আরও জিজ্ঞাসা করেছিলাম, ‘তোমরা কি কখনো ম্যাজিস্ট্রেট, ইউএনও ও এসিল্যান্ডকে দেখেছ?, তোমরা কি জান এত বড় সরকারি কর্মকর্তা হতে হলে কী করতে হয়?’ তখন সবাই সমস্বরে বলেছিল, ‘আমরা কখনো ম্যাজিস্ট্রেট, ইউএনও ও এসিল্যান্ড দেখিনি’। আমি তাদের আশ্বস্ত করে বলেছিলাম, ‘তোমাদের বিদায় অনুষ্ঠানে আমি ইউএনওকে আমন্ত্রণ জানাবো’। বিদায় অনুষ্ঠানে ম্যাজিস্ট্রেট, ইউএনও ও এসিল্যান্ডকে দেখে স্কুলের শিশুরা খুব খুশি হয়েছে। এদের এত আনন্দিত হতে আগে কখনো দেখিনি।”
ইউএনও পিএম ইমরুল কায়েস জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমন্ত্রণ পাওয়ার পর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম এ বিদ্যালয়ে আমি যাবো। প্রত্যন্ত গ্রামের সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশে এ বিদ্যালয় দেখে আমি সত্যই অভিভূত। বিদ্যালয়ের পাঠদান, খেলাধুলাসহ দরিদ্র শিক্ষার্থীদের যেকোনো সমস্যা আমি গুরুত্ব সহকারে দেখবো।’
শেখ মহসীন/এসআর/জেআইএম