সবজি ভান্ডার খ্যাত উত্তরের জেলা নওগাঁ। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ জেলার শাকসবজি চলে যায় রাজশাহী, জয়পুরহাট ও ঢাকাসহ কয়েকটি জেলায়। শীত মৌসুমে প্রচুর শাকসবজি বাজারে উঠতে শুরু করেছে। এর মধ্যে আছে শিম, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, টমেটো, আলু এবং লাউসহ অন্যান্য সবজি। চাহিদার তুলনায় বাজারে আমদানি বাড়ায় কমেছে দাম।
জেলার বিভিন্ন পাইকারি বাজার ঘুরে জানা যায়, প্রতি কেজি সাদা শিম ৮-১০ টাকা, লাল শিম ১২-১৩ টাকা, কাতিসা (বীজ শিম) ২৮-৩০ টাকা, বেগুন ১০-১৫ টাকা, টমেটো ৪০-৪৫ টাকা কেজি এবং ফুল কপি ৮-১০ টাকা, বাঁধা কপি ১৩-১৫ টাকা, লাউ ১০-১৫ টাকা পিস বিক্রি হচ্ছে।
চাষিরা বলছেন- ইউরিয়া ও ডিএপি সার প্রতি বস্তায় (৫০ কেজি) বেড়েছে ৪০০ টাকা, শ্রমিকের মজুরি ৩০০ টাকা থেকে বেড়ে ৫০০ টাকা হয়েছে। সব মিলিয়ে শাকসবজির উৎপাদন খরচ বেড়েছে। কিন্তু সে তুলনায় দাম পাওয়া যাচ্ছে না। দাম কমায় উৎপাদন খরচ ওঠা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করছেন তারা। চাষিদের অভিযোগ, তাদের কাছ থেকে সবজি কিনে লাভবান করছেন মধ্যস্বত্বভোগীরা।
ধুপাইপুর গ্রামের কৃষক দুলাল হোসেন বলেন, মৌসুমের শুরুতে সাদা শিম পাইকারিতে প্রায় ১৪০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। তখন সিমের উৎপাদন কম হতো। এখন উৎপাদন বেশি হচ্ছে তবে দাম কম। প্রতি কেজি শিম ৮-১০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এ দামে আমাদের পোষাবে না। সার, ওষুধ ও শ্রমিকের মজুরি দিয়ে গতবারের তুলনায় ফসল উৎপাদনে ৪-৫ হাজার টাকা বেশি খরচ হয়েছে।
বাচারি গ্রামের কৃষক স্বপন হোসেন বলেন, আমরা পাইকারিতে লাউ বিক্রি করছি প্রতি পিস ১০-১২ টাকায়। আর মধ্যস্বত্তভোগীরা আমাদের থেকে কিনে বিক্রি করছেন ২৫-৩০ টাকায়। চাষিরা দাম না পেলেও মধ্যস্বত্তভোগীরা লাভবান হচ্ছে। সরকার যদি নজরদারি বাড়াতো কৃষকদের জন্য সুবিধা হতো।
নওগাঁ সদর উপজেলার চকআতিতা বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমান টিপু। তিনি বলেন, এ বাজারে এখন প্রচুর সিম পাওয়া যাচ্ছে। এ হাটে প্রতিদিন প্রায় ২০০ মণ শিম বেচাকেনা হয়। এছাড়া অন্য সবজিও আছে। সবজির আমদানি বেশি হওয়ায় দাম কমেছে। প্রতিদিন প্রায় ৫০-৬০ মণ শিম রাজশাহী নিয়ে যাই। পরিবহন ভাড়া হিসেবে প্রতি কেজি সিমে ২ টাকা যোগ হবে। প্রতি কেজিতে ২-৩ টাকা লাভ করা যায়।
নওগাঁ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফারহানা নাজনীন জাগো নিউজকে বলেন, বাজারে এখন প্রচুর শীতকালীন শাক সবজি উঠতে শুরু করেছে। আমদানি বেশি হওয়ায় দাম কিছুটা কমেছে। তবে মৌসুমের শুরুতে শাকসবজির দাম কিছুটা বেশি থাকায় চাষিরা লাভবান হয়েছেন। এখন দাম কিছুটা কম পাচ্ছেন। তবে উৎপাদন খরচ উঠবে।
এসজে/এএসএম