দেশজুড়ে

বছর শেষে নওগাঁয় জেঁকে বসেছে শীত

নওগাঁর ওপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে শৈত্যপ্রবাহ। গত কয়েক দিন থেকে তাপমাত্রার পারদ ওঠানামা করছে। এতে জনজীবনে স্থবিরতা নেমে এসেছে। শীত নিবারণে কোথাও কোথাও খড়কুটো জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে।

বদলগাছী কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা তেঁতুলিয়ায় রেকর্ড করা হয়েছে ৮ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২১ দশমিক ৮। আর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে নওগাঁ। যেখানে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে।

গত কয়েকদিন বেলা ১১টা পর্যন্ত কুয়াশার চাদরে ঢাকা থাকে পুরো জেলা। বেলা ১১টার পর সূর্যের দেখা মিললেও তীব্রতা বা প্রখরতা তেমন দেখা যায় না। সূর্য ডোবার আগেই আবার হালকা কুয়াশা শুরু হয়। রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘন কুয়াশা নেমে আসে। সেইসঙ্গে থাকে হালকা মৃদু বাতাস।

শৈত্য প্রবাহের কারণে শীতের তীব্রতা বাড়ায় জনজীবনে নেমে এসেছে স্থবিরতা। গরম পোশাক যার যা আছে তা গায়ে জড়িয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন মানুষ। শীতে বেশি সমস্যায় পড়েছেন দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ।

সদর উপজেলার বক্তারপুর গ্রামের শ্রমজীবী বাবুল হোসেন বলেন, শীত বেশ ভালোই পড়েছে। বাচ্চাদের নিয়ে বেশি সমস্যা হচ্ছে। কুয়াশার কারণে সূর্যের আলো কম থাকায় কাপড় শুকানো যাচ্ছে না। শীতে হাত-পা কাঁপছে, কোনো কাজই ঠিকমতো করা যাচ্ছে না। শরীর গরম রাখতে চা এবং গরম পানি খাওয়া হয়। এতদিন শীত নাই। বছর শেষে এখন হাড় কাঁপাকাঁপি। কোনো বছরই এমন অবস্থা দেখা যায়নি।

মান্দা উপজেলার মহানগর (নিচুপাড়া) গ্রামের কৃষক বকুল হোসেন বলেন, গত কয়েক দিন থেকে প্রচণ্ড শীত। কুয়াশা হলে সমস্যা নাই। কিন্তু বাতাসের কারণে শীত বেশি পড়েছে। আজ (শুক্রবার) সারাদিনই হালকা করে বাতাস হচ্ছে। দুদিন আগেও রাতে মেঘের গর্জনের সঙ্গে ছিটেফোটা বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলে ফসলের বিশেষ করে আলুর জন্য সমস্যা হতো। আগামীতে যদি বৃষ্টি হয় ফসলের জন্য ব্যাপক ক্ষতি হবে। আর এতো কুয়াশা বোরো ধানের চারার জন্য ক্ষতিকর। ক্ষতি থেকে বাঁচাতে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হচ্ছে।

আব্বাস আলী/এফএ/এএসএম