জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হয়ে ঘর ছেড়েছিলেন এক মাদরাসা শিক্ষার্থী। দাখিল পরীক্ষা শেষ করে মায়ের ফোন নিয়ে ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলেন তিনি। সেখানেই তার সঙ্গে পরিচয় হয় এক নারীর। সেই নারীই মূলত ওই শিক্ষার্থীকে কথিত হিজরতের জন্য ঘর ছাড়তে উদ্বুদ্ধ করেন। তার সঙ্গে আরও আট তরুণ-তরুণী কথিত হিজরতের জন্য বান্দরবানের উদ্দেশ্য রওনা হন। চট্টগ্রামে থেকে গত ২২ ডিসেম্বর তাদের উদ্ধার করে র্যাপিড আ্যকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)।
সোমবার (২ জানুয়ারি) রাজধানীর কুর্মিটোলায় র্যাব সদরদপ্তরে হিজরতের জন্য বের হওয়া নয়জনকে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর অনুষ্ঠানে জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধ হওয়ার বিষয়ে বর্ণনা করেন ওই তরুণী।
তিনি বলেন, আমার নিজের মোবাইল নেই। মায়ের মোবাইল দিয়ে ফেসবুক আইডি খুলি। এরপর ফেসবুকে বিভিন্ন গ্রুপে ইসলামি পোস্টে লাইক-কমেন্টস করতাম। এসব গ্রুপে ইসলামের খণ্ডিত বিভিন্ন বিষয়ের ওপর আলোচনা পোস্ট করা হতো। সেখান থেকে আরেক আপুর (তরুণীর) সঙ্গে পরিচয় হয়। তার মাধ্যমে একটি মেসেঞ্জার গ্রুপে যুক্ত হই।ওই গ্রুপে ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হতো। সেখান থেকেই হিজরত সম্পর্কে জানতে পারি। বাড়ি থেকে বের হওয়ার তিনদিন আগে কোথায় যাবো জায়গা নির্ধারণ করা হয়। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২২ ডিসেম্বর বাড়ি থেকে বের হই। এরপর আমরা পাঁচজন মেয়ে মহাখালীতে একত্রে হই। সেখান থেকে আমরা বাসে করে চট্টগ্রাম যাই।আরও পড়ুন>> ধর্মের ভুল ব্যাখ্যায় ঘর ছাড়েন ৯ তরুণ-তরুণী: র্যাব এডিজিতিনি আরও বলেন, চট্টগ্রামে যাওয়ার পরে আমাদের সঙ্গে আরও চারজন ছেলে যুক্ত হয়। সবাই মিলে বান্দরবান যাই। তবে, বান্দরবানে থাকার জন্য ভালো স্থান না পেয়ে আবার চট্টগ্রামে ফিরে আসি। সেখান থেকে ঢাকায় আসার জন্য বাসের টিকিট কেটেছিলাম। কিন্তু এসময়ে আমাদের সঙ্গে থাকা এক বোন (তরুণী) অসুস্থ হয়ে যান। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করি। হাসপাতাল থেকে যখন ছাড়া পাই ততক্ষণে বাস ছেড়ে দেয়। পরে চট্টগ্রামের এক হোটেলে উঠি। সেখান থেকে আমাদের উদ্ধার করে র্যাব।
পরে র্যাব আমাদের কাছে বাড়ি ছাড়ার কারণ জানতে চায়। এরপর র্যাব আমাদের বাড়ি ছাড়ার পেছনে ধর্মের অপব্যাখ্যা ও ভুল ধারণা সম্পর্কে বোঝালে সঠিক পথে আসতে উদ্বুদ্ধ হই।
টিটি/এমএএইচ/এএসএম