বঙ্গোপসাগরে কক্সবাজারের মহেশখালীর সোনাদিয়া চ্যানেলে কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলারে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসময় জলদস্যু বাহিনী জেলেদের মারধর করে ট্রলারে থাকা আহরিত বিপুল পরিমাণ মাছ, অর্ধশতাধিক জাল, মোবাইলফোন ও অন্যান্য সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
সোমবার (২ জানুয়ারি) দিনগত রাত দেড়টার দিকে বঙ্গোপসাগরের সোনাদিয়ার পশ্চিমে ১৬ বিও এলাকায় মাছ ধরার ট্রলারে এই ডাকাতি হয় বলে জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত আল্লাহর দান বোটের মালিক মোহাম্মদ সেলিম উল্লাহ।
ডাকাতির শিকার ট্রলারের মালিক মোহাম্মদ সেলিম উল্লাহ বলেন, গত ২২ ডিসেম্বর প্রায় ৫ লাখ টাকার মালামাল দিয়ে আমাদের যৌথ অংশীদারি এফবি আল্লাহর দান ট্রলার সাগরে মাছ শিকারে যায়। গভীর সাগরে গত ১০-১১ দিন মাছ শিকার করে সোমবার রাতে আমরা তীরে ফিরছিলাম। এমন সময় বঙ্গোপসাগরের সোনাদিয়ার পশ্চিমে ১৬ বিও এলাকায় পৌঁছালে ডাকাতের কবলে পড়ে জাহাজটি।
তিনি বলেন, সশস্ত্র ডাকাতদল বোটের স্টোরে জমা বিপুল পরিমাণ ইলিশসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছ, ৫০টি জাল, মাঝিমাল্লাদের মোবাইলফোন, অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায়। এসময় মাঝিমাল্লাদের মারধরও করা হয়। পরে খালি বোট নিয়ে আহত মাঝিমাল্লারা মঙ্গলবার ভোরে কক্সবাজার ফিশারি ঘাটে ফিরে আসে।
ট্রলার মালিক সেলিম উল্লাহ বলেন, আমাদের বোটটি নতুন নামিয়েছি। প্রথমবারই সাগরে মাছ শিকারে গিয়ে লুটের শিকার হলো। খোঁজ নিয়ে দেখেছি, যে এলাকায় আমাদের বোট মাছ শিকার করেছে ওটা বাঁশখালী লহর। সেখানে অন্য এলাকার ট্রলার মাছ শিকার করলে তাতে কৌশলে লুটপাট চালানো হয়। আমাদের ধারণা, মাঝি লহর বুঝতে না পারায় এ ক্ষতির মুখোমুখি হতে হলো।
বোটের মাঝিমাল্লাদের বরাতে তিনি আরও বলেন, এপবি আল্লাহর দানের মতো আরও কয়েকটি বোট লুটের শিকার হয়েছে।
কক্সবাজার মৎস্য ব্যবসায়ী ও ট্রলার মালিক নেতা জয়নাল আবেদীন হাজারী বলেন, সকালে ঘাটে আসা এফবি আল্লাহর দান ট্রলারের সব মাঝিমাল্লার চেহারা বিধ্বস্ত। তাদের শরীরে মারের চিহ্ন দেখা গেছে। তাদের কাছ থেকে লুট হওয়া মুঠোফোনে সকাল পর্যন্ত কল ঢুকেছে। এ লুটের ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে। দুর্বৃত্তদের নামে এ অভিযোগ দেওয়া হবে।
কক্সবাজার ট্রলার মালিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মাস্টার মোস্তাক আহমদ বলেন, মাছ আহরণ করে ফেরার পথে সাগরে আল্লাহর দান ট্রলারে ডাকাতির খবর শুনেছি। প্রায় সময় আমাদের অনেক বোট ডাকাতির শিকার হয়। ধারদেনায় মাছ শিকারে গিয়ে ডাকাতির কবলে পড়ে অনেককে নিঃস্ব হয়ে ঋণগ্রস্ত হতে হয়। প্রশাসনের উচিত বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা।
কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এখনো কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ভাবা হবে।
সায়ীদ আলমগীর/এমআরআর/এএসএম