দেশজুড়ে

ফেনীতে ঠান্ডাজনিত রোগে দৈনিক হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছে ৮০ শিশু

ঠান্ডাজনিত বিভিন্ন রোগের প্রকোপে শিশু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে ফেনীর হাসপাতালগুলোতে। এতে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ দিনে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে কাশি, নিউমোনিয়া, শ্বাসকষ্ট, জ্বর ও ভাইরাসজনিত ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ১৭ বেডের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছে প্রতিদিন গড়ে ৮০ থেকে ৯০ জন রোগী। এছাড়া বহির্বিভাগে প্রতিদিন চিকিৎসা নিচ্ছে দুই শতাধিক শিশু। হাসপাতালে সেবা নিতে আসা এসব শিশুর অধিকাংশই নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ায় আক্রান্ত।

ফেনী জেনারেল হাসপাতাল ঘুরে দেখা যায়, শিশু ওয়ার্ড ও মেডিসিন ওয়ার্ডে অতিরিক্ত রোগী গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিচ্ছে। রোগীর চাপে হাসপাতালের ওয়ার্ডের ভেতর মেঝেতেও ফোম দিয়ে বাড়ানো হয়েছে শয্যা। ওয়ার্ডের ভেতরে স্থান না পেয়ে অনেক রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বারান্দায়।

হাসপাতালের বারান্দায় চিকিৎসা নেওয়া দেড়মাস বয়সী শিশু ফারিয়া সুলতানার মা মর্জিনা আক্তার জানান, ৫ দিন আগে ফারিয়ার জ্বর ও ঠান্ডা দেখা দেয়। স্থানীয় চিকিৎসকের ওষুধ খেয়ে কোনো কাজ হয়নি। তাই নিরুপায় হয়ে মেয়েকে নিয়ে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। শয্যা না থাকায় বারান্দাতেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এছাড়া বারান্দায় রোগীদের চাপে নানা ধরনের বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে।

হাসপাতালে ভর্তি রোগী আয়েশা আক্তার জানান, তিনিই শ্বাসকষ্ট নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এখানে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাই বেশি।

আনোয়ার হোসেন নামে এক রোগী জানান, এমনিতেই ফেনী হাসপাতালে প্রচুর পরিমাণ রোগী। বেড না থাকায় ফ্লোরে ও বারান্দায় অবস্থান নিতে হয়েছে। ঠান্ডার প্রকোপে রোগী আরো বেড়ে গেছে।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. আসিফ ইকবাল জানান, আবহাওয়া পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শীত যত বাড়ছে রোগীর সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এসব রোগ থেকে রক্ষা পেতে শিশুদের ছয় মাস বয়স পর্যন্ত নিয়মিত বুকের দুধ পান করাতে পরামর্শ দেন তিনি। পাশাপাশি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা রাখতে শিশুর মায়েদের প্রতি পরামর্শ দেন তিনি।

এদিকে উপকূলীয় সোনাগাজী উপজেলায় ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে জ্বর, সর্দি, কাশি ও ডায়রিয়াআক্রান্ত শিশুর সংখ্যা। এতে করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঠান্ডাজনিত রোগে প্রতিদিন ১০-১২ জন শিশুসহ নানা বয়সী রোগী ভর্তি হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, ডিসেম্বর মাস থেকে আজ বুধবার দুপুর পর্যন্ত ডায়রিয়াজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছে শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সী ৪৮ জন শিশু এবং নিউমোনিয়া রোগে আক্রান্তের সংখ্যা ৩৩ জন। অপরদিকে ঠান্ডাজনিত রোগে শিশু ছাড়াও নানা বয়সী লোকজন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসানিচ্ছে।

সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আবদুল কাদের পিন্টু জানান, ঠান্ডাজনিত কারণে শিশুসহ নানা বয়সী লোকজন ডায়রিয়া, নিউমেনিয়া, শ্বাসকষ্ট, সর্দি ও জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। আমরা সাধ্যমতো চিকিৎসা সেবা দিয়ে যাচ্ছি।

আবদুল্লাহ আল-মামুন/এফএ/এএসএম