কিডনি ডায়ালাইসিস ফি বাড়ানোর প্রতিবাদে এবার সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করছেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের রোগী ও তাদের স্বজনরা। মঙ্গলবার (১০ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনের দুই পাশের রাস্তা দখল করে স্লোগান দিতে থাকেন তারা। এসময় তারা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সেন্ডরের কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টারের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন।
এদিকে হাসপাতালের সামনের প্রধান ফটকে রাস্তায় অবস্থান নেওয়ায় সড়কের উভয় পাশে যানজট তৈরি হয়। এতে হাসপাতালে আসা রোগী ছাড়াও সাধারণ মানুষ দুর্ভোগে পড়ে। দুপুর পৌনে ২টার দিকে পুলিশের হস্তক্ষেপে বিক্ষোভকারীরা মূল সড়ক থেকে সরে দাঁড়ান।
আরও পড়ুন>>> বাংলাদেশে ২ কোটি মানুষ কিডনি রোগে আক্রান্ত
জানা গেছে, ডায়ালাইসিস ফি বাড়ানোর প্রতিবাদে গত শনিবার থেকে আন্দোলন করে আসছেন রোগী ও স্বজনরা। রোগীদের অভিযোগ, কোনো কারণ ছাড়াই ডায়ালাইসিসের ফি বাড়ানো হয়েছে। এতে প্রতি মাসে ডায়ালাইসিস করতে রোগীদের আগের থেকে প্রায় দ্বিগুণ খরচ বহন করতে হবে বলে অভিযোগ করেন তারা।
এদিকে চমেক হাসপাতালে স্থাপন করা সেন্ডর ডায়ালাইসিস সেন্টারে ডায়ালাইসিস ফি বাড়ানোর প্রতিবাদে শনিবার থেকে বিক্ষোভ করেন রোগীরা। রোববার সকালেও কোনো সুরাহা না হওয়ায় বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। শনিবার দুপুরে ডায়ালাইসিস সেন্টারের সামনে ও হাসপাতাল পরিচালকের কার্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ করলেও রোববার সকাল থেকে হাসপাতালের মেইন গেটের দুই ধারের সড়ক বন্ধ করে মূল ফটকের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন। এসময় তারা ফেস্টুন, ব্যানারও বহন করেন। পরে পুলিশ এসে বিক্ষোভকারী রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলেন।
আরও পড়ুন>>> ডায়ালাইসিস ফি বাড়ানোর প্রতিবাদে রোগীদের বিক্ষোভ
ওইদিন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসান এসে বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া রোগী-স্বজনরা কিডনি ডায়ালাইসিসে গত বছরের ফি ও সুবিধা বহাল রাখার দাবি জানান। এসব দাবিতে হাসপাতাল পরিচালকের কার্যালয়ে জড়ো হয়ে কয়েক দফায় বিক্ষোভ করতে দেখা যায় তাদের।
সূত্রে জানা গেছে, একজন রোগীকে প্রতি মাসে ৮ বার ডায়ালাইসিস করতে হয়। এজন্য আগে থেকে মাসের প্রথম দুবার ২ হাজার ৭৯৫ টাকা করে পরিশোধ করতে হতো। পরের ছয়বারই ৫১০ টাকা করে পরিশোধ করতে হতো একজন রোগীকে। কিন্তু নতুন বছরের শুরু থেকে ২ হাজার ৭৯৫ টাকার পরিবর্তে ২ হাজার ৯৩৫ টাকা করা হয়। তাও প্রথম দুবারের পরিবর্তে এখন চারবার ওই ফি নির্ধারণ করা হয়। আবার অবশিষ্ট চারবারে ৫১০ টাকার স্থলে ৫৩৫ টাকা করা হয়েছে। এতে প্রতি রোগীর ডায়ালাইসিস ফি মাসে প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। আগে যেখানে প্রতি মাসে ৮ হাজার ৬৫০ টাকা খরচ হতো, সেখানে নতুন নিয়মে ১৩ হাজার ৮৮০ টাকা খরচ লাগছে।
আরও পড়ুন>>> চট্টগ্রাম মেডিকেলে একজন মেরিনারের বেঁচে ওঠার গল্প
ফি কমানোর এখতিয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নেই জানিয়ে চমেক হাসপাতাল পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসান বলেন, ফি বাড়ানোর বিষয়টি চুক্তিতেই উল্লেখ আছে। এ চুক্তি সরকারের সঙ্গে ওই প্রতিষ্ঠানের। চুক্তি অনুযায়ী এ ফি প্রতি বছরই ৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। শুধু যে এ বছর বাড়লো তা কিন্তু নয়। প্রতি বছর রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু আমাদের কম ফির সেশন নির্ধারিত। যার কারণে আগে কোনো রোগী মাসে চার-পাঁচটি সেশন কম ফি’র সুবিধায় পেতেন, এখন সে সুবিধাও আমাদের কমাতে হচ্ছে। কারণ একজনকে সুবিধা বেশি দিলে আরেকজন বঞ্চিত হচ্ছেন। কিন্তু আমাদের এখানে যারা সেবা নিতে আসেন, তাদের প্রায়ই সবাই কম খরচের সুবিধাটা বেশি চান। এ জায়গায় আমাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমরা সবাইকে ওভাবে কম ফি’র সুবিধাটা দিতে পারছি না।
তিনি বলেন, তবে মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী সাড়ে ৬ হাজার জন ডায়ালাইসিস সুবিধা পাবেন। সরকারি নিয়মের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই আমাদের। তবে এ সংক্রান্ত বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করছি এ বিষয়ে শিগগির একটি সমাধান পাবো।
ইকবাল হোসেন/এমআইএইচএস/এএসএম