চমেক হাসপাতাল

ডায়ালাইসিস ফি বাড়ানোর প্রতিবাদে রোগীদের বিক্ষোভ

নিজস্ব প্রতিবেদক
নিজস্ব প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক চট্টগ্রাম
প্রকাশিত: ০৪:০০ পিএম, ০৮ জানুয়ারি ২০২৩

কিডনি ডায়ালাইসিস ফি বাড়ানোর প্রতিবাদে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন করেছেন রোগী ও স্বজনরা।

রোববার (৮ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্যান্ডরের সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। এসময় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান স্যান্ডরের কর্মচারীরা রোগীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, কোনো কারণ ছাড়াই ডায়ালাইসিসের ফি বাড়ানো হয়েছে। এতে প্রতি মাসে ডায়ালাইসিস করতে তাদের প্রায় দ্বিগুণ খরচ বহন করতে হবে। বর্তমানে একজন রোগীকে প্রতি মাসে ৮ বার কিডনি ডায়ালাইসিস করতে হয়।

ফি বাড়ানোর প্রতিবাদে শনিবারও (৭ জানুয়ারি) মানববন্ধন করেন রোগীরা। রোববার সকাল পর্যন্ত কোনো সুরাহা না হওয়ায় আবারও বিক্ষোভ শুরু করেন তারা।

শনিবার দুপুরে ডায়ালাইসিস সেন্টারের সামনে ও হাসপাতাল পরিচালকের কার্যালয়ে গিয়ে বিক্ষোভ করলেও রোববার হাসপাতালের সামনের দুই পাশের সড়ক বন্ধ করে মূল ফটকের সামনে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। এসময় তারা ফেস্টুন, ব্যানারও বহন করেন। পরে পুলিশ এসে বিক্ষোভকারী রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে।

এরপর দুপুর ২টার দিকে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসান এসে বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। বিক্ষোভে অংশ নেওয়া রোগী ও স্বজনরা তার কাছে কিডনি ডায়ালাইসিসে গত বছরের ফি ও সুবিধা বহাল রাখার দাবি জানান।

সূত্রে জানা গেছে, একজন রোগীকে প্রতি মাসে ৮ বার ডায়ালাইসিস করতে হয়। এজন্য আগে থেকে মাসের প্রথম দুবার ২ হাজার ৭৯৫ টাকা করে পরিশোধ করতে হতো। পরের ছয়বারই ৫১০ টাকা করে পরিশোধ করতে হতো। কিন্তু নতুন বছরের শুরু থেকে ২ হাজার ৭৯৫ টাকার পরিবর্তে ২ হাজার ৯৩৫ টাকা করা হয়। প্রথম দুই বারের পরিবর্তে এখন চারবার ওই ফি নির্ধারণ করা হয়। আবার অবশিষ্ট চারবার ৫১০ টাকার স্থলে ৫৩৫ টাকা করা হয়েছে। এতে প্রতি রোগীর ডায়ালাইসিস ফি মাসে প্রায় দ্বিগুণ বেড়ে গেছে। আগে যেখানে প্রতি মাসে ৮ হাজার ৬৫০ টাকা খরচ হতো, সেখানে নতুন নিয়মে ১৩ হাজার ৮৮০ টাকা খরচ লাগছে।

এসময় ফি কমানোর এখতিয়ার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নেই জানিয়ে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসান বলেন, ফি বাড়ানোর বিষয়টি চুক্তিতেই উল্লেখ আছে। আর এ চুক্তি সরকারের সঙ্গে ওই প্রতিষ্ঠানের। চুক্তি অনুযায়ী এ ফি প্রতি বছরই ৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। শুধু যে এবছর বাড়লো তা কিন্তু নয়। প্রতি বছর রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু আমাদের কম ফি’র সেশন নির্ধারিত। যার কারণে আগে কোনো রোগী মাসে ৪-৫টি সেশন কম ফি’র সুবিধা পেতেন, এখন সে সুবিধাও আমাদের কমাতে হচ্ছে। কারণ একজনকে সুবিধা বেশি দিলে আরেকজন বঞ্চিত হচ্ছেন। কিন্তু আমাদের এখানে যারা সেবা নিতে আসেন, তাদের প্রায় সবাই কম খরচের সুবিধাটা বেশি চান। এ জায়গায় আমাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। আমরা সবাইকে ওভাবে কম ফি’র সুবিধাটা দিতে পারছি না।

‘তবে মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী সাড়ে ৬ হাজার জন ডায়ালাইসিস সুবিধা পাবেন। সরকারি নিয়মের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই আমাদের। তবে এ সংক্রান্ত বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আশা করছি এ বিষয়ে শিগগির একটি সমাধান পাবো।’ যোগ করেন তিনি।

ইকবাল হোসেন/ইএ/জেআইএম

পাঠকপ্রিয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল জাগোনিউজ২৪.কমে লিখতে পারেন আপনিও। লেখার বিষয় ফিচার, ভ্রমণ, লাইফস্টাইল, ক্যারিয়ার, তথ্যপ্রযুক্তি, ধর্ম, কৃষি ও প্রকৃতি। আজই আপনার লেখাটি পাঠিয়ে দিন [email protected] ঠিকানায়।