দেশজুড়ে

চরের শাকে চলে সংসার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক কর্মচারী লুৎফর রহমান। তার পছন্দের খাবার খেসারি শাক। কিন্তু এই শাক রান্নার জন্য প্রস্তুত করা বেশ ঝামেলার। বাড়ির স্ত্রীরা সেটা করতে চান না। তাই বলে কি এ শাক খাওয়া বন্ধ থাকবে? পছন্দের সেই শাকের জন্য তিনি এসেছেন রাজশাহী নগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড়ে। এখানেই তার সেই শাক মিলছে কাটা-ধোয়া। দামও তেমন বেশি না।

লুৎফর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ‘আমার বাড়ি রাজশাহী নগরীর তালাইমারী মোড়ে । সেখান থেকে ১৫ টাকা রিকশা ভাড়া দিয়ে এখানে আসি। আবার ফিরে যাই ১৫ টাকা ভাড়া দিয়ে। তবে এটি আমার কাছে কোনো বিষয় না। এই শাক এখানে পাচ্ছি এটাই বড় কথা।

‘আগে মা-দাদিরা এটা কাটতেন। এখনকার বাড়ির বউরা এটা কাটতে চায় না। এখানে কেটে দেয়। এ শাক খুব ভালো ও টেস্টি। এবার আমি ২৫ বার কিনে নিয়ে গেছি। আজ নিয়ে ২৬ বার হবে’, যোগ করেন শাকপ্রিয় লুৎফর রহমান।

আরও পড়ুন: বিনোদনের নতুন দিগন্তে রাজশাহী

রাজশাহী নগরীর বাসিন্দা স্নেহ লতা। সিঅ্যান্ডবি মোড় থেকে শাক কিনলেন। তিনি বলেন, ‘এই শাকের সঙ্গে আনেকেই পরিচিত। এখানে কাটা ও ধোয়া পাওয়া যাচ্ছে। আমার পরিবারের সবাই এটা পছন্দ করে। এই শাক রান্না করতে বেশি কষ্টও হয় না। শুধু একটু লবণ, ঝাল, পেঁয়াজ দিয়েই রান্না করা যায়। আমিও এখান থেকে কিনে নিয়েছি। দামও বেশি না।’ লুৎফর রহমান ও স্নেহ লতার মতো যারাই দেশি শাক পছন্দ করেন তারাই এখন ছুটছেন রাজশাহী নগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড়ে। বিকেল হলেই এখানে বসে শীতকালীন শাকের বাজার। এখানে খেসারির শাক ছাড়াও মিলছে মুলা শাক, শানচি শাক, বুটের শাক, বথুয়া শাক। চাইলে কেটে-কুটে বেছে নেওয়ার সুবিধা এখানে আছে।

আরও পড়ুন: এক টাকায় রোগী দেখছেন ডা. সুমাইয়া

পদ্মার চরের কৃষকবধূরা নদীর ওপার থেকে এই শাক তুলে এসে এখানে বিক্রি করেন। এক কেজি খেসারির শাক বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা। আর কেটে কুটে নিলে ৮০ টাকা কেজি পড়বে। পর্যায়ক্রমে বুটের শাক ৭০ টাকা। কেটে নিলে ১০০ টাকা।

মানোয়ারা বেগমের বাড়ি রাজশাহী নগরীর শ্রীরামপুর বাঁধের নিচে। পদ্মা নদীর চর থেকে শাক তুলে বিক্রি করতে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘প্রতিদিন ৬-৮ কেজি শাক নিয়ে আসি। সকালে অন্য কাজের পর বিকেলে এই কাজ করি। এতে প্রতিদিন গড়ে ৩০০-৪০০ টাকা লাভ হয়।’

আরও পড়ুন: নলকূপ অপারেটরের চাকরি ছাড়লেন সেই পুলিশ সদস্য

মানোয়ারার পাশে বসে শাক বিক্রি করছিলেন তার নাতবউ চম্পা বেগম। তিনি প্রতিদিন এখানে শাক বিক্রি করেন। চম্পা বলেন, ‘বছরে অন্য সময় মানুষের বাসাবাড়িতে কাজ করি। তবে শীতকালে শাক বিক্রি করেই সংসার চলে।’

চম্পার সঙ্গে কথা শেষ হতেই একটি অটোরিকশা এসে থামলো। চম্পার কাছে থেকে শাক কিনলেন। ক্রেতা জানালেন, দুদিন পর ঢাকায় ছোট মেয়ের বাসায় যাবেন। সঙ্গে এ শাক নিয়ে যাবেন। এজন্য চম্পাকে বললেন, একটু ভালো করে পরিষ্কার করে দিতে। চম্পাও বেশ যত্ন করে কেটে-বেছে দিলেন।

সাখাওয়াত হোসেন/এসআর/জিকেএস