কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে সিএনজি-মাহেন্দ্র মালিক সমিতির সভাপতি আজিজ শেখ ও সাধারণ সম্পাদক মো. শফির বিরুদ্ধে প্রায় তিন বছর যাবৎ সমিতির লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অর্থ আত্মসাতের প্রতিবাদে এবং চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে প্রায় ১৪৮ জন চালক বুধবার (১৮ জানুয়ারি) সকাল থেকে গাড়ি চালানো বন্ধ করে পৌরসভার জামতলা এলাকায় ধর্মঘট শুরু করেন। এতে পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচলে বিঘ্ন ঘটে।
খবর পেয়ে দুপুর দেড়টার দিকে কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহাসীন হোসেন ঘটনাস্থলে গিয়ে আপাতত চাঁদা আদায় বন্ধ রাখার ঘোষণাসহ সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিলে চালকরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেন।
চালকরা জানান, সমিতিতে প্রায় ১৯৪টি সিএনজি ও মাহেন্দ্র গাড়ি রয়েছে। সড়কে গাড়ি চালানোর জন্য কুষ্টিয়া হাইওয়ে পুলিশের জন্য প্রতিমাসে ১৮ হাজার টাকা, গাড়ি নিয়ন্ত্রণের জন্য চারজন শ্রমিকের জন্য প্রতিদিন গাড়ি প্রতি ২০-৩০ টাকা, নতুন গাড়ি ভর্তি বাবদ গাড়ি প্রতি ৫ হাজার টাকা ও পুরাতন গাড়ি ভর্তি বাবদ ৩ হাজার টাকাসহ বিভিন্ন খাতে চালকদের কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে চাঁদা তোলা হয়। সব মিলে প্রতি মাসে চাঁদার পরিমাণ দাঁড়ায় ৫৫-৬০ হাজার টাকা। প্রতি মাসের খরচ বাদ দিয়ে অবশিষ্ট টাকা সমিতির ব্যাংক হিসাব নম্বরে জমা রাখার কথা। কিন্তু সভাপতি-সম্পাদক টাকা ব্যাংকে জমা না রেখে নিজেরা ভাগ-বাটোয়ারা করে নেন। টাকার হিসাব চাইতে গেলে তারা চালকদের শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করেন।
তারা আরো জানান, আত্মসাতকৃত অর্থ ফেরতসহ কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠনের জন্য গত মঙ্গলবার বিকেলে ১৪৮ জন চালক কুমারখালী পৌরসভার মেয়র সামছুজ্জামান অরুনের কাছে বিচারের জন্য যান। কিন্তু মেয়র বিষয়টির কোনো সুরহা করতে না পারায় বুধবার সকাল থেকে তারা গাড়ি চালানো বন্ধ করে ধর্মঘট শুরু করেছেন।
এ বিষয়ে কুমারখালী সিএনজি-মাহেন্দ্র মালিক সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, হাইওয়ে পুলিশের মাসিক টাকা, গাড়ি নিয়ন্ত্রণ শ্রমিকদের জন্য দৈনিক মজুরি, গাড়ির চালকদের আপদে-বিপদে সহযোগিতাসহ নানাবিধ কারণে প্রতিমাসে প্রায় ৫৫-৬০ হাজার টাকা চাঁদা তোলেন সভাপতি ও সম্পাদক। খরচ বাদে অবশিষ্ট টাকা সমিতির ব্যাংক হিসাবে জমা রাখার কথা। কিন্তু সভাপতি-সম্পাদক ব্যাংকে টাকা জমা না রেখে তারা নিজেরাই এই টাকা ইচ্ছামতো খরচ করে আসছেন। এভাবে প্রতিবছরে প্রায় আট থেকে দশ লাখ টাকা তারা আত্মসাৎ করছেন তারা।
সমিতির সাবেক সভাপতি আব্দুল মান্নান জানান, নামে বেনামে সভাপতি আজিজ ও সাধারণ সম্পাদক শফি লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করেছেন। টাকার হিসাব চাইতে গেলে চালকদের মারপিট ও নানান ভয়ভীতি দেখান তারা। বিষয়টি সমাধানের জন্য দুপুরে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি। প্রশাসনের কাছে টাকা ফেরত ও দুর্নীতীগ্রস্ত কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি গঠনের দাবি জানান তিনি।
এ বিষয়ে জানতে কুমারখালী সিএনজি-মাহেন্দ্র মালিক সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকে কল দেওয়া হয়। কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ না করায় তার মন্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সমিতির বর্তমান সভাপতি আজিজ শেখ বলেন, প্রতিদিন গাড়ি প্রতি ২০-৩০ টাকা চাঁদা তোলা হয়। গাড়ি নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রতিদিন চারজন শ্রমিক কাজ করেন। দিনে প্রায় ৪-৫ হাজার টাকা চাঁদ ওঠে। খরচ খরচা বাদ দিয়ে যা থাকে তা ব্যাংকে জমা রাখেন বলে তিনি দাবি করেন।
চালকদের অভিযোগ অস্বীকার করে কুষ্টিয়া হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেবব্রত রায় মুঠোফোনে জানান, তারা কারো কাছ থেকে কোনো টাকা-পয়সা নেন না। সড়কে অবৈধযান চললেই আটক করে মামলা দেয় পুলিশ। প্রতিদিনই ১০-১৫টি মামলা রুজু হয় বলে জানান তিনি।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোহসীন হোসাইন বলেন, কমিটির সদস্যদের মধ্যে আভ্যন্তরীণ কোনো দ্বন্দ্বের জের ধরে চালকরা ধর্মঘট শুরু করেছিলেন। জনদুর্ভোগ নিরসনে চালকদের সঙ্গে কথা বলে ধর্মঘট প্রত্যাহার করা হয়েছে। আপাতত চাঁদা তোলা বন্ধ থাকবে। চালকদের অভিযোগ খতিয়ে দেখে এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আল-মামুন সাগর/এফএ/এএসএম