শীতকালীন বিভাগীয় ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার মোছা. রাবেয়া খাতুন (১৪)। রোববার (২২ জানুয়ারি) দুপুরে জেলার শেখ কামাল আধুনিক স্টেডিয়ামের ইনডোরে টুর্নামেন্টের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হয়। খেলায় সদর উপজেলাকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় রাবেয়া।
রাবেয়া খেলায় চ্যাম্পিয়ন হলেও জীবনযুদ্ধে পরাজিত তার বাবা। অসুস্থতার কারণে সপ্তাহখানেক ধরে তিনি কর্মক্ষম। ঘরে থাকা টাকা ও খাবার শেষ হয়ে গেছে। রোববার রাতে রান্নার জন্য বাড়িতে কোনো খাবার নেই। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কানে পৌঁছালে তাৎক্ষণিক তিনি রাবেয়াকে সঙ্গে নিয়ে চাল-ডালসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে তাদের বাড়ি ছুটে যান।
আরও পড়ুন: একটি র্যাকেটের অভাবে ঢাকায় ব্যাডমিন্টন খেলা অনিশ্চিত রাবেয়ার
রাবেয়া কুমারখালী পৌরসভার খয়েরচারা গ্রামের ভ্যানচালক মো. মামুন হোসেনের মেয়ে। সে তেবাড়িয়া শেরকান্দি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। তিন ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট সে।
স্থানীয়রা জানান, রাবেয়া ছোটবেলা থেকে ফুটবল, কাবাডি, হ্যান্ডবল, উচ্চ লাফ, ব্যাডমিন্টন, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন খেলায় পারদর্শী। আর্থিক ও সামাজিক নানা প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ইতোমধ্যে উপজেলা, জেলা, বিভাগীয় পর্যায়ে একাধিকবার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেছে সে।
রাবেয়া খাতুন জানায়, বিকেএসপিতে ভর্তি হয়ে দেশসেরা খেলোয়ার হতে চাই। কিন্তু বাবার সে সামর্থ্য নেই। আমি ইতোমধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে ২৭টি পুরস্কার ও সনদ পেয়েছি। সেগুলো ভাঙা ঘরের বেড়ায় রেখে দিয়েছি। সুযোগ ও সহযোগিতা পেলে আমিও একদিন সেরাদের সেরা হতে পারি।
আরও পড়ুন: ছেলে সেজে ক্রিকেট খেলা মুর্শিদা এখন বিশ্বের উদীয়মান তারকা
এ বিষয়ে মামুন হোসেন বলেন, অন্যের ভ্যান ভাড়ায় চালাই। মা-বাবা, স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ সাতজনের সংসার। সপ্তাহখানেক ধরে অসুস্থতার কারণে উপার্জন বন্ধ হয়ে গেছে। গুছানো টাকা ও খাবার শেষ হয়ে গেছে। ইউএনও স্যার চাল-ডালসহ মেলা খাবার দিয়েছেন। আমরা খুব খুশি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বিতান কুমার মণ্ডল বলেন, রাবেয়া দারিদ্র্যতা জয় করে খেলাধুলায় এগিয়ে চলেছে। তাকে মানসম্মত খেলার সামগ্রী উপহার দেওয়া হয়েছে। একটি মাধ্যমে তাদের খাবার নাই জানতে পেরে খাদ্যসামগ্রী তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
আল-মামুন সাগর/আরএইচ/জেআইএম