দেশজুড়ে

সিরাজগঞ্জে সংঘর্ষের পর বিএনপির ৩৮ নেতাকর্মী গ্রেফতার

সিরাজগঞ্জে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের পর ৩৮ জনকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ। গ্রেফতাররা সবাই বিএনপির নেতাকর্মী।

শনিবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার কালিয়াহরিপুর ইউনিয়নের পাইকপাড়া বাজার এলাকায় সংঘর্ষের পর তাদের গ্রেফতার করা হয়।

জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রওশন আলী জাগো নিউজকে জানান, সংঘর্ষের পর বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে জেলা যুবদলের সভাপতি মির্জা আব্দুল জব্বার বাবুসহ ৩৮ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

কালিয়াহরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুস সবুর বলেন, দেশব্যাপী বিএনপি-জামায়াতের সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে আওয়ামী লীগের শান্তিপূর্ণ সমাবেশে বিএনপি পরিকল্পিতভাবে হামলা করে। এতে দলের কোনো নেতাকর্মী গুরুতর আহত না হলেও ইটপাটকেলের আঘাতে কয়েকজন আহত হন।

এদিকে সংঘর্ষের পর সন্ধ্যায় শহরের বাজার স্টেশন মুক্তির সোপানে শান্তি সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন করেছে জেলা আওয়ামী লীগ। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের সংসদ সদস্য প্রফেসর মেরিনা জাহান কবিতা, সিরাজগঞ্জ-২ (সদর-কামারখন্দ) আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না, সিরাজগঞ্জ ও পাবনা সংরক্ষিত আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সেলিনা বেগম স্বপ্না, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট কে এম হোসেন আলী হাসান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ তালুকদার, সাবেক সহ-সভাপতি বিমল কুমার দাস, ফিরোজ ভূইয়া ও ইসহাক আলী প্রমুখ।

সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত অভিযোগ করে বলেন, পাইকপাড়ায় আওয়ামী লীগের শান্তি সমাবেশে বিএনপির নেতাকর্মীরা হামলা চালিয়েছে। বিএনপির সন্ত্রাসীরা জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ১২ মোটর সাইকেল ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে। বিএনপি পদযাত্রার নামে সন্ত্রাস যাত্রা শুরু করেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু ও তার স্ত্রী রুমানা মাহমুদ এ সন্ত্রাসের পরিকল্পনা করেন। আমরা এই সন্ত্রাসের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

অপরদিকে জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা মোস্তফা জামান জাগো নিউজকে জানান, কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে পাইকপাড়া বাজার এলাকা থেকে পদযাত্রা করে পার্শ্ববর্তী বাঐতারা বাজারের দিকে যাওয়ার পথে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা পেছন থেকে অতর্কিত হামলা করে। এতে সংঘর্ষ হলে বিএনপির প্রায় ১০-১২ নেতাকর্মী আহত হন। এ সময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে বেশ কয়েকটি মোটরসাইকেল।

সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির জানান, দুই দলের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। আবারও সংঘর্ষের আশংকায় ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এম এ মালেক/এএইচ/এমএস