খেলাধুলা

যে কারণে ব্যাট করতে নামেননি সাকিব!

এ ম্যাচের আগেও রান তোলায় তিনি ছিলেন দুই নম্বরে। আর স্ট্রাইকরেটকে বিবেচনায় ধরলে সাকিব আল হাসান সেরা দশে সবার শীর্ষে। সাকিব এবার ১৭৪.৪১ স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করেছেন। রান তোলায় সেরা দশের বাকি ৯ জনের স্ট্রাইকরেট তার চেয়ে কম।

এটাই শেষ কথা নয়। এবারের বিপিএলে স্বাচ্ছন্দ্যে হাত খুলে খেলা সাকিব অনেক মারমুখী ব্যাটিংও করেছেন। তার প্রমাণ মিলবে, এ ম্যাচের আগে তার দল ফরচুন বরিশালের পাকিস্তানি মিডল অর্ডার ইফতিখার আহমেদ (২৩ ছক্কা) ছাড়া সবার চেয়ে বেশি ২২ ছক্কা হাঁকিয়েছেন সাকিব।

শুধু পরিসংখ্যানের কথা বলা কেন, এবারেরর বিপিএলে সত্যিই সাকিবের ব্যাট ছিল দারুণ সাবলীল। একদম স্বাচ্ছন্দ্যে খেলেছেন। যখন যাকে যেখান দিয়ে খুশি সেখানে দিয়েই অনায়াসে অবলীলায় চার ও ছক্কা হাঁকিয়েছেন।

কিন্তু এমন দুর্দান্ত ফর্মে থাকার পরও আজ রোববার শেরে বাংলায় টুর্নামেন্টে নিজেদের অস্তিত্বের লড়াইয়ে (এলিমিনেটর রাউন্ডে) সাকিব প্রথম ৫ জনের মধ্যে ব্যাটিংয়েই নামেননি।

অধিনায়ক সাকিবের ব্যাট করতে না নামা নিয়ে শুরু হলো নানা কথা। ভক্ত, সমর্থক ও বিশেষজ্ঞ অনেকের মতো সাকিব ব্যাট করলে বরিশালের ভাগ্য ভিন্ন হতে পারতো। যাদের আগে ব্যাটিংয়ে পাঠিয়ে সাকিব নিজে ব্যাটিং করেননি, তাদের মধ্যে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১৬১.৯০ আর লঙ্কান ভানুকা রাজাপাকসে ১৭০.০০ স্ট্রাইকরেটে ব্যাট করলেও আফগান করিম জানাত খেলেছেন ১৩২.০০ স্ট্রাইকরেটে। হাতে পর্যাপ্ত উইকেট থাকার পরও তাই বরিশালের রানের গতি বাড়েনি।

খেলা শেষে মিডিয়ার সামনে বরিশাল হেড কোচ নাজমুল আবেদিন ফাহিমও স্বীকার করলেন, তার দলের রানটা কম হয়ে গেছে। যেমন ভিত গড়ে উঠেছিল, তাতে করে স্কোর ১৯০ হওয়া উচিত ছিল।

সাকিব কেন ব্যাট করলেন না? কী ভেবে নিজে না নেমে এ আসরে প্রথম খেলতে নামা রাজাপাকসে আর করিম জানাতকে নামানো হলো?

বরিশাল কোচ নাজমুল আবেদিন ফাহিমের ব্যাখ্যা, ‘এতো ভালো প্লাটফর্ম হওয়ার পর ওর (সাকিবের) মনে হয় মাথায় কাজ করেছিল রাজাপাকশে বা করিম জানাতকে ফ্রি করে দিলে ওরা আরও ফ্রি খেলতে পারবে। নো মেটার ওরা যতটুকু রান করতে পারুক না কেন, ওটা যদি ভালো রেটে করতে পারে সেটা দলের কাজে আসবে। ও শেষে গিয়ে ওর কাজটা করবে।’

‘কিন্তু আমার মনে হয় না সেই পরিকল্পনাটা কাজে লেগেছে। করিমকে পাঠানো হয়েছে বা রাজাপাকশেকে পাঠানো হয়েছে। আমরা যেটা প্রত্যাশা করেছিলাম সেটা তারা করতে পারেনি। সেটা উইকেটের কারণে হোক বা অন্য কোনো কারণে বা ভালো বোলিংয়ের কারণে হোক। কিংবা ওদের নিজেদের ইনটেন্টের কারণে হোক। সেটা করতে পারেনি। সেটার কারণেই কিন্তু আমরা পিছিয়ে গিয়েছি। যে ফাউন্ডেশন শুরুতে দিয়েছিল আমাদের সুযোগ ছিল ১৯০ বা তারও বেশি স্কোর ছাড়িয়ে যাওয়ার। সেই ব্যাটিং শক্তি কিন্তু আমাদের শেষের দিকে ছিল। যেটা আমরা ব্যবহার করতে পারিনি।’

সিদ্ধান্তটা কি সাকিবের নিজের? ফাহিমের জবাব, ‘অধিনায়কের কল তো ছিলই। নট দ্যাট, আমাদের সঙ্গে আলাপ করেনি। ও নিজে থেকে কমফোরটেবল ফিল করছিল যে ওরা (রাজাপাকসে আর করিম জানাত) ভালো খেলোয়াড়। ওরা যদি যায় ২-১ ওভার খেলে রানের গতি বাড়িয়ে দিয়ে আসতে পারতো। তাহলে ১-২ উইকেট হারালেও অসুবিধা হতো না আমাদের; কিন্তু সেই সুযোগটা সেভাবে কাজে লাগাতে পারিনি আমরা।’

বরিশাল কোচ মনে করেন অধিনায়ক সাকিবের এ চিন্তা সফল হয়নি। তার অনুভব, এই উইকেটে, এই পরিস্থিতিতে সাকিব পুরো আসরে দারুণ ব্যাটিং করছে। ম্যাচে দলের প্ল্যাটফর্মটাও ছিল খুব ভালো। সেখানে সাকিবের চেয়ে ভালো কোনো অপশন ছিল না।

তাই ফাহিমের শেষ কথা, ‘খুব ভালো হতো যদি সাকিব নিজে খেলতো এবং নিজের মতো করে খেলতো।’ খানিক আক্ষেপের স্মরে ফাহিম আরও বলেন, ‘সেটা আমাদের দলের জন্য ভালো হতো। এটা এখন হয়তো সাকিবেরও উপলব্ধিতে আসবে। যেটা হয়ে গেছে সেটা আমরা আর ফেরত নিয়ে আসতে পারব না। এটা একটা শিক্ষা।’

এআরবি/আইএইচএস