আওয়ামী লীগ রাজনৈতিকভাবে এতিম হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।’
শনিবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রাম মহানগরীর কাজির দেউরি নুর আহম্মেদ সড়কে আয়োজিত পদযাত্রার শুরুতে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। কেন্দ্রীয় বিএনপিঘোষিত ১০ দফা দাবি আদায় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মহানগর বিএনপি এ পদযাত্রার আয়োজন করে।
নুর আহম্মেদ সড়কে দলীয় কার্যালয় থেকে এ পদযাত্রা শুরু হয়। এটি লাভলেইন মোড়, জুবলি রোড়, তিনপুলের মাথা, বোস ব্রাদার্স, ডিসি হিল, বৌদ্ধ মন্দির, লাভলেইন হয়ে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়।
আরও পড়ুন>>গণআন্দোলনে দিশেহারা সরকার: ফখরুল
সমাবেশে আমীর খসরু বলেন, ‘চট্টগ্রামে আজকের পদযাত্রা ওয়াসার মোড়, এনায়েত বাজার মোড় পার হয়ে গেছে। লাখো জনতা রাস্তায় নেমে গেছে। এরা কেউ বাড়ি ফিরে যাবে না। বাংলাদেশের মানুষ সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে এ ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটাবে। জনগণ ফ্যাসিস্টের পতন ঘটিয়ে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করে নিরপেক্ষ সংসদ ও নিরপেক্ষ সরকার আনবে, যারা সাধারণ মানুষের কাছে জবাবদিহি থাকবে।’
তিনি বলেন, ‘তারেক রহমানের সিদ্ধান্ত, ফয়সালা হবে রাজপথে। রাজপথ ছাড়া দ্বিতীয় কোনো পন্থা নেই। রাজপথে জনগণকে নিয়ে এ ফ্যাসিস্টকে হটাতে হবে। ঢাকায়ও আমাদের সমাবেশ হয়েছে। লোকে লোকারণ্য ছিল এ পদযাত্রা। আওয়ামী লীগ আজ এতিম হয়ে গেছে। মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছে। পুলিশের পিছে পিছেও ঘুরছে। আর ছুরি, লাঠি, দা নিয়ে তারা শান্তি সমাবেশ করছে। ওরা নাকি জনগণের সম্পদ রক্ষা করবে।’
আরও পড়ুন>>দেশে একনায়কতন্ত্র চলছে: জিএম কাদের
আইন রক্ষার জন্য কয়জন থাকবে- এমন প্রশ্ন করে আমির খসরু বলেন, ‘আইন রক্ষার জন্য একজন থাকবে, হয় পুলিশ থাকবে, নতুবা আওয়ামী সন্ত্রাসীরা থাকবে। দুইটা তো থাকতে পারে না। দেশে যদি আইন থাকে, তাহলে পুলিশ থাকবে, দেশে যদি আইন না থাকে, তাহলে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা দা, ছুরি নিয়ে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ করবে। তবে এসব দিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে দমানো যাবে না।’
তিনি বলেন, ‘‘আগামী নির্বাচন যদি আগের নির্বাচনের মতো করেন, দিনের ভোট রাতে চুরি করেন, তাহলে দেশের মানুষ বুঝিয়ে দেবে ‘কত ধানে কত চাল’। আজকে আওয়ামী লীগ ভীত হয়েছে। বিশ্ববিবেক আজ আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছে। ঢাকায় অবস্থানরত বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকরা বার্তা দিচ্ছেন পরিষ্কারভাবে। যদি বাংলাদেশের গণতন্ত্র নিচের দিকে যায় তাহলে তাদের সঙ্গে সম্পর্কও নিচের দিকে যাবে। ভোট চুরির নির্বাচন, মানবাধিকার লঙ্ঘন, গুম, খুন, মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দিয়ে বাঁচার কোনো সুযোগ নেই।’’
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘আজকের পদযাত্রা কর্মসূচি থেকে সরকারের পতনের ঘণ্টা বেজে গেছে। কোনো ভয়-ভীতি দেখিয়ে আন্দোলন দমানো যাবে না। দমানোর চেষ্টা করলে এর ফল ভালো হবে না। আমরা রাজপথে আছি, থাকবো। শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে মানুষের অধিকার আদায় করবো।’
আরও পড়ুন>>ছাত্রলীগের নামে যারা অপকর্ম করে তারা দুর্বৃত্ত: ওবায়দুল কাদের
ডা. শাহাদাত হোসেনের সভাপতিত্বে ও মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব আবুল হাশেম বক্করের পরিচালনায় সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন। বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির উপদেষ্টা আবুল খায়ের ভূঁইয়া, জয়নাল আবেদীন ফারুক, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম, শ্রম সম্পাদক এ এম নাজিম উদ্দীন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জালাল উদ্দীন মজুমদার, ভিপি হারুনুর রশীদ, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক আলহাজ এম এ আজিজ, যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ মিয়া ভোলা, অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার, সৈয়দ আজম উদ্দীন, এস এম সাইফুল আলম, এস কে খোদা তোতন, নাজিমুর রহমান, শফিকুর রহমান স্বপন, ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, ইসকান্দর মির্জা, আবদুল মান্নান, পেশাজীবি নেতা বার কাউন্সিলের সদস্য অ্যাডভোকেট এ এস এম বদরুল আনোয়ার, আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত সভাপতি অ্যাডভোকেট নাজিম উদ্দীন চৌধুরী, সম্মিলিত পেশাজীবি পরিষদের আহ্বায়ক সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচি, সদস্যসচিব ডা. খুরশীদ জামিল চৌধুরী। এসময় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
ইকবাল হোসেন/ইএ/জেআইএম