চেক প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় ছয় মাসের সাজা পেয়েছিলেন মো. মাহফুজুর রহমান (৪০)। সেই সাজা থেকে বাঁচতে তিনি সাত বছর সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে পালিয়ে ছিলেন। তবে শেষরক্ষা হয়নি।
সোমবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে ফেনী সদর উপজেলার লালপুল এলাকার একটি বাসা থেকে পুলিশের কাছে ধরা পড়েন ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার মতিগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম সাতবাড়িয়া এলাকার জাকির আহম্মদের ছেলে মো. মাহফুজুর রহমান। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ২০১৪ সালে চেক প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মাহফুজুর রহমানের বিরুদ্ধে ফেনীর আদালতে একটি মামলা হয়। ওই মামলায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। কিছুদিন কারাভোগের পর জামিনে বের হয়ে তিনি দুবাইয়ে পালিয়ে যান। আর আদালতে হাজির হননি। শুনানি শেষে আদালত ২০১৫ সালে মাহফুজুর রহমানকে ছয় মাসের কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানার রায় দেন।
আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা পাওয়ার পর থানার কর্মকর্তারা মাহফুজুরের খোঁজে নামেন। কিন্তু তার কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরে তারা জানতে পারেন মাহফুজুর টাকা পরিশোধের ভয়ে গোপনে দুবাইয়ে চলে গেছেন। সপ্তাহখানেক আগে এক সোর্সের মাধ্যমে আবারও পুলিশ জানতে পারে দীর্ঘ সাত বছর পর মাহফুজুর দুবাই থেকে দেশে ফিরে এসেছেন। ফেনীতে তার এক আত্মীয়ের বাসায় উঠেছেন।
কয়েক দিন আগে মাহফুজুরকে ধরতে গভীর রাতে তার গ্রামের বাড়িতে ও সম্ভাব্য কয়েকটি স্থানে গিয়ে খোঁজখবর নেয় পুলিশ। পরে এক ব্যক্তির মাধ্যমে তার মুঠোফোন নম্বর ও ছবি সংগ্রহ করে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারে সেই মুঠোফোন নম্বরের সূত্র ধরে আজ সকালে ফেনী সদর উপজেলার লালপুল এলাকায় অভিযান চালিয়ে আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
সোনাগাজী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. খালেদ হোসেন দাইয়ান বলেন, মাহফুজুরকে আদালতের মাধ্যমে ফেনী কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আবদুল্লাহ আল-মামুন/এফএ/এএসএম