জাতীয়

ট্রান্সমিশন গ্রিড সম্প্রসারণ প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ছে

দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ট্রান্সমিশন গ্রিড সম্প্রসারণ প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ভারত (আদানি) থেকে আমদানি করা বিদ্যুৎ দেশের উত্তরাঞ্চল হয়ে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা সম্ভব হবে। পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রসহ দক্ষিণাঞ্চলে নির্মিত বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর পাওয়ার ইভাক্যুয়েশনের জন্য এ প্রকল্পের আওতাধীন সঞ্চালন লাইনগুলো ব্যবহার করা যাবে।

এছাড়া প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দেশের দক্ষিণ ও পশ্চিম অঞ্চলের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার সক্ষমতা বাড়বে এবং ওই সব এলাকার ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণে নির্ভরযোগ্য ও মানসম্মত বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

প্রকল্পটিতে ঋণসহায়তা দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। ২০১৮ সালের জুলাই মূলপ্রকল্পের মেয়াদ আগামী জুনে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, সংশোধিত (প্রথম সংশোধন) প্রকল্পে সময় আরও দেড় বছর বাড়িয়ে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর করা হয়েছে।

মূলপ্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল তিন হাজার ২৭৩ কোটি টাকা। সংশোধিত প্রকল্পে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার হাজার ৩২২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন এক হাজার ২৭ কোটি টাকা, এডিবিঋণ দুই হাজার ৮২৪ কোটি টাকা এবং সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ৪১৭ কোটি টাকা।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় ট্রান্সমিশন গ্রিড সম্প্রসারণ প্রকল্পে (প্রথম সংশোধন) দুই হাজার ৮২৪ কোটি টাকা ঋণ দেবে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। দেশের ১৯টি জেলার ৫০টি উপজেলায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) লিমিটেড।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য:দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর অঞ্চলের মানুষের ক্রমবর্ধমান আবাসিক ও বাণিজ্যিক বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করা, বরিশাল অঞ্চলে নির্মিতব্য অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং বাংলাদেশের বৃহত্তম কৃষি উৎপাদন এলাকা হিসেবে পরিচিত রাজশাহী এলাকার কৃষিকাজের সুবিধার্থে নির্ভরযোগ্য ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।

পরিকল্পনা কমিশন জানায়, এরই মধ্যে প্রকল্পটি একনেক সভা অনুমোদন করেছে।

প্রধান কার্যক্রম:বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন নির্মাণ, রিকন্ডাক্টরিং, নতুন গ্রিড উপকেন্দ্র নির্মাণ/বিদ্যমান উপকেন্দ্রের ক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ এবং বিদ্যমান গ্রিড উপকেন্দ্রে নতুন বে-সম্প্রসারণ।

কর্মপরিধি বৃদ্ধি, প্রকল্প এলাকা সম্প্রসারণ ও বিভিন্ন অঙ্গের ব্যয় বৃদ্ধির জন্য এ সংশোধনী আনা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।

প্রকল্পটি অনুমোদন প্রস্তাবনা সম্পর্কে পরিকল্পনা বিভাগের সচিব সত্যজিত কর্মকার জানান, অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় মোট ৩ হাজার ৩৫৮ সার্কিট কিলোমিটার বিদ্যমান বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনের ক্ষমতাবর্ধন এবং উচ্চ বিভব সম্পন্ন (হাই ভোল্টেজ) নতুন বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইন নির্মাণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থাকে সুদৃঢ় করতে সঞ্চালন ব্যবস্থায় বিদ্যমান উপকেন্দ্রগুলো প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন অপরিহার্য। প্রকল্পের মাধ্যমে ৩০৮ দশমিক ৬৯৫ কিলোমিটার সঞ্চালন লাইন নির্মাণ, ৩২৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার রিকন্ডাক্টরিং, চারটি নতুন জিআইএস উপকেন্দ্র নির্মাণ, একটি বিদ্যমান উপকেন্দ্রের ক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ এবং ছয়টি বে সম্প্রসারণের সংস্থান আছে। এ প্রেক্ষাপটে অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার সঙ্গে প্রকল্পটির উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য সঙ্গতিপূর্ণ।

এমওএস/এমএএইচ/এএসএম